আলজাজিরার বিশ্লেষণ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের কূটনৈতিক অচলাবস্থা কি নিরসন হবে
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৫:৪০
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে সমবেত হয়েছেন। একদিকে বিশ্বমঞ্চ থেকে প্রকাশ্য হুমকি আর সামরিক হুঁশিয়ারি চলছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে চলছে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা। প্রায় সাত মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এই দৌড়ঝাঁপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
আলজাজিরার একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের এই কূটনৈতিক সমাবেশের ফাঁকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন প্রতিনিধিদের উদ্দেশে একটি নতুন চুক্তিপত্র পাঠিয়েছেন। কাতারকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়।
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রস্তাবে ৬০ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেহরানের বাণিজ্য স্বাভাবিক করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করার শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
অগ্রগতি নিয়ে বিশ্লেষকদের সংশয়
নিউইয়র্কের এসব আলোচনা থেকে এখনই কোনো বড় সাফল্য আসবে বলে মনে করছেন না ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা। থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক সানাম ভাকিল মনে করেন, রাতারাতি কোনো চুক্তি হওয়া প্রায় অসম্ভব। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের দেয়াল এত সহজে ভাঙার নয়। তবে এ ধরনের যোগাযোগ অন্তত আলোচনার একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে সাহায্য করে। তাঁর মতে, এমন একটি মধ্যস্থতার সূত্র বের করতে হবে, যা দুই দেশের সরকারই তাদের নিজেদের জনগণের কাছে জয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো আদেল আবদেল গাফার বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান দুপক্ষই প্রকাশ্যে কঠোর বার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা আলোচনার এক ধরনের মহড়াও চালাচ্ছে। নিউইয়র্কে থাকা ইরানি কূটনীতিকরা আলোচনার গতি কিছুটা বাড়াতে পারলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে তেহরানের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে। ইরানের কট্টরপন্থি গোষ্ঠী এবং সামরিক বাহিনীর সরাসরি সায় না থাকলে যে কোনো চুক্তি কাগজে-কলমেই আটকে থাকবে।
সংঘাত থামাতে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতা করে যাচ্ছে। তারা চায় দুপক্ষকেই মূল আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অচলাবস্থা কাটার লক্ষণ এখনও স্পষ্ট নয়। চূড়ান্ত সমাধান শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন এবং তেহরানের রাজনৈতিক ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করবে।
হরমুজ প্রণালি ও অর্থনীতির সংকট
এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর। আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধ এখনও মেটেনি। ইরান এই সমুদ্রপথটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ফি আদায় করতে চায়। তবে ওয়াশিংটন এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য সমুদ্রপথটি সব সময় উন্মুক্ত রাখার পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছে। এই দ্বন্দ্বের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে।
ইরানে ড্রোন-মিসাইলের ১৩০০ চালান পাঠিয়েছে চীন
চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশসংবলিত প্রায় এক হাজার ৩০০টি চালান পাঠিয়েছে চীন। কাস্টমসের তথ্যের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই এর মধ্যে একটি চালান ইরানে এসে পৌঁছায়। এর ঠিক দুদিন পর পাঠানো অপর একটি চালানে ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের ড্রোন যন্ত্রাংশ ছিল।
- বিষয় :
- ইরান যুদ্ধ