নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ থেকে অভিনেতা-রাজনীতিকসহ আটক শতাধিক
অভিনেত্রী সুসান সারান্ডনকে আটক করে পুলিশ। ছবি: এএফপি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০০:৪১
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার আগে নিউইয়র্কে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরের বাইরে পৃথক বিক্ষোভে অভিনেতা, রাজনৈতিককর্মী, সংগঠক ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) আলজাজিরাকে জানিয়েছে, বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে ১০৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আয়োজকদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচনী প্রার্থী ছিলেন। অন্যদিকে, রয়টার্সের প্রতিবেদনে অন্তত ৩০ জনকে আটকের কথা বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার, ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে ছিলেন।
অন্যদিকে, পুলিশের তথ্যের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার মিডটাউন ম্যানহাটন এলাকায় নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ থেকে প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানিজেহ মোরাদিয়ান (৫০) বলেন, গাজায় যা করা হচ্ছে, তাতে একটি পুরো সমাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদের নামে এবং আমাদের করের অর্থে করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব। এসব নৃশংসতার সাফাই গাওয়ার জন্য জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করার কোনো অধিকার নেতানিয়াহুর নেই।’
ইহুদি অধিকারকর্মী সংগঠন জুয়িশ ভয়েস ফর পিসের (জেভিপি) আয়োজনে জাতিসংঘের বাইরে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন বলে দুই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকের পরনে ছিল একই ধরনের সাদা টি-শার্ট। তাতে লেখা ছিল ‘বোমার বদলে মানুষকে অর্থ দাও’, ‘যুদ্ধ নয়’ এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’।
বিক্ষোভকারীরা ফার্স্ট অ্যাভিনিউয়ের একটি অংশে বসে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ মাইকিং করে তাদের সড়ক ছাড়ার নির্দেশ দেয়। কেউ কেউ ফুটপাতে সরে গেলেও মূল দলের সদস্যরা সড়কে বসে নেতানিয়াহুবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশ একে একে তাদের সরিয়ে নিয়ে হাত পেছনে জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে বাসে তোলে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিরুদ্ধে কথা বলতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। নিউইয়র্কের বার্নার্ড কলেজের অধ্যাপক মানিজেহ মোরাদিয়ান বলেন, গাজার পুরো সমাজব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের করের অর্থ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা তাদের দায়িত্ব।
ভাষণে নেতানিয়াহু অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। নেতানিয়াহুর সামনে এমন একটি নির্বাচন রয়েছে, যেখানে তিনি হেরে যেতে পারেন।
মঞ্চে নেতানিয়াহু, খালি হয়ে গেল অধিবেশন কক্ষ
নেতানিয়াহু অল্প কিছু সময় আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু পোডিয়ামে দাঁড়ানোর পরপরই অধিবেশন কক্ষ খালি হয়ে যায়। সেখানে থাকা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা দল বেঁধে বের হয়ে যান। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরুর আগেই খালি হয়ে যেতে থাকে অধিবেশন কক্ষ। তবে ইসরায়েলের সমর্থক প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা ছিলেন। যাদের সংখ্যা বেশ কম ছিল।
মামদানিকে তীব্র আক্রমণ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির তীব্র সমালোচনা করেছেন নেতানিয়াহু। আগে থেকেই এমনটি ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
এর আগে বিভিন্ন সময় মামদানি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী বলেছেন। এর জবাবে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু তাঁকে ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দেন এবং ইসরায়েল ও দেশটির সামরিক বাহিনী নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, সত্যকে বিকৃত করার জন্য আপনাকে ধিক্কার। আক্রান্ত ব্যক্তি ও আক্রমণকারীকে উল্টোভাবে উপস্থাপন করায় আপনাকে ধিক্কার। সত্যের মুখে থুতু দেওয়ায় আপনাকে ধিক্কার জানাই।
মিথ্যাচারের অভিযোগ নিউইয়র্ক মেয়রের
তিনি মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগের জবাবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যা ঢাকতে নির্লজ্জ মিথ্যাচারের পাল্টা অভিযোগ তোলেন মেয়র মামদানি।
এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে নিজের যুদ্ধাপরাধ আড়াল করতেই এমন ভিত্তিহীন মিথ্যা ছড়াচ্ছেন নেতানিয়াহু। কোনো মিথ্যাচার দিয়েই যুদ্ধাপরাধের দায় মুছে ফেলা যাবে না।
- বিষয় :
- বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- বিক্ষোভ