ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আশুগঞ্জে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, যুবক আটক

পাবনায় মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

আশুগঞ্জে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, যুবক আটক
×

প্রতীকী ছবি

পাবনা অফিস, গাজীপুর ও আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০০:১৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিরদিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

আটক জাহিদ ওই গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি। নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্রী এবং অভিযুক্ত জাহিদের চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে জাহিদ শিশুটিকে পাশের একটি ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটি কাঁদতে শুরু করলে তার মুখে বালিশচাপা দিয়ে ও গলাটিপে হত্যা করে। এরপর চাদর দিয়ে শিশুটিকে ঢেকে রেখে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই ঘরের সামনে শিশুটির জুতা দেখে ভেতরে ঢুকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জাহিদকে ধরে একটি কক্ষে আটকে রাখে। সেখানে সে উপস্থিত লোকজনের কাছে অপরাধ স্বীকার করে। খবর পেয়ে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে বাড়িটি ঘিরে ধরে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে বিকেল ৫টার দিকে জাহিদকে থানায় নিয়ে যায়। 

আশুগঞ্জ থানায় ওসি একেএম শফিকুল আলম জানান, পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে। ভুক্তভোগীর মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়াধীন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

শ্রীপুরে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা
গাজীপুরের শ্রীপুরে আশ্রয়ের কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই শিশুসন্তানের সামনে নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী নারী সোহরাব হোসেন নামের এক পান ব্যবসায়ীকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় এই মামলা দায়ের করেন। 

ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় এক বছর আগে তাঁর স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। বাসা ভাড়া বকেয়া থাকায় গত মঙ্গলবার দুপুরে জৈনাবাজার এলাকার বাসা থেকে বাড়ির মালিক তাঁকে বের করে দেন। পরে দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি মাওনা চৌরাস্তা এলাকার উড়াল সেতুর নিচে ফুটপাতে আশ্রয় নেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে সোহরাব তাঁকে পানের আড়তসংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে দুই শিশুসন্তানের সামনেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। আতঙ্কিত দুই শিশুর চিৎকার ও কান্নাকাটির পরও সোহরাব যৌন নির্যাতন চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে তাঁকে সেখানে ফেলে অভিযুক্ত পান ব্যবসায়ী পালিয়ে যান। 

পরদিন সকালে তিনি পানের আড়তে গিয়ে কয়েকজনকে বিষয়টি জানান। দুই ব্যবসায়ী তাঁকে কিছু টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। বিচার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলন্ত বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তাঁর বড় ছেলে আহত হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

শ্রীপুর থানার ওসি শাহীনুর আলম বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

পাবনায় মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার 
পাবনা সদরের ভজেন্দ্রপুর জামিয়া ফারুকিয়া মাদ্রাসায় আখতারুজ্জামান নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হলে উত্তেজিত জনতা ওই শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দেয়। গতকাল ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় মামলা করেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপায়। 

পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×