ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাবা চাইতেন আমি লিখি

বাবা চাইতেন আমি লিখি
×

নাসরীন জাহান [৫ মার্চ ১৯৬৪]

নাসরীন জাহান

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

সাহিত্যের প্রতি প্রথম কখন আগ্রহ জাগে
সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। বাবার উৎসাহ ছিল বেশি। বাবা চাইতেন আমি লিখি। ছোটবেলায় অন্ত্যমিল দিয়ে কবিতা লিখতাম। যখন ঢাকায় ফুফুর কাছে এসে থাকতাম, কড়া শাসনে থাকলেও সুযোগ পেলেই সিনেমা দেখতাম। ফুপাত বোন ও সহপাঠীদের জিন-পরীর গল্প বানিয়ে বানিয়ে শোনাতাম। ভয় পেত! 
যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি, ‘শিশু’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় গল্প ছাপা হয়। শিশু একাডেমি থেকে আমার স্কুলে গল্প পাঠানোর জন্য চিঠি আসে। শিক্ষিকার উৎসাহে একটি গল্প লিখি, তা ছাপা হয় পত্রিকায়। অনেকের কাছে আমার ভাবনা পরিণত বলে মনে হয়েছে তখন। অবাক হয়েছেন তারা। আমি উৎসাহ পেয়েছি। 
ভাবাদর্শকে প্রভাবিত করেছেন যারা 
আমার লেখা ও ভাবাদর্শকে প্রভাবিত করেছেন গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, অ্যাডগার অ্যালান পো, সুবিমল মিশ্রসহ অনেকে। তাদের লেখার জাদুবাস্তবতা, মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, ভৌতিক-রহস্যময় আমেজ ও বিমূর্ত রূপকের প্রকাশ আমাকে দারুণ প্রভাবিত করেছে। 
যাদের পড়তে ভালোবাসি 
এখানেও মার্কেস, সুবিমল মিশ্র ও অ্যালান পো’র নাম আসবে। সঙ্গে যুক্ত হবেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও জীবনানন্দ দাশ। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, অবচেতন মনের জটিলতা উন্মোচন, সামাজিক রূঢ় বাস্তবতার চিত্রায়ণ আমাকে টানে। জীবনানন্দের কবিতার কাছে বারবার ফিরে যাই। প্রাতিষ্ঠানিকতাহীন ও ছকভাঙা গদ্যরীতির কারণে সুবিমল মিশ্রের লেখা ভালো লাগে। মার্কেসকে ভালো লাগে বাস্তব জীবনকে রূপক, জাদু ও কল্পনার মোড়কে ফোটানোর ক্ষমতা ও দক্ষতার কারণে। এডগার অ্যালান পোর প্রতীকনির্ভর লেখায় আমি বুঁদ হয়ে থাকি। 
প্রথম প্রকাশিত বই, বইটিকে ঘিরে স্মৃতি 
যখন প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছিল, তখন স্বামীর কাজের সুবাদে সিলেটে থাকি। প্রকাশিত হওয়ার আনন্দে দ্রুত ঢাকায় আসার জন্য আশরাফ (নাসরীন জাহানের জীবনসঙ্গী কবি আশরাফ আহমেদ] প্লেনের টিকিট করে দিল। প্লেনে করে সিলেট থেকে ঢাকায় এসেছি এবং বইমেলায় গিয়ে বই হাতে নিয়েছি। হাতে নেওয়ার পর ঝুরঝুর করে ছিঁড়ে পড়ে গেল। নিম্নমানের কাগজে ছাপানো হয়েছে। তা ছাড়া প্রচ্ছদও যেমনটা আশা করেছিলাম, তেমন হয়নি। বইয়ের করুণ দশা দেখে কেঁদেছিলাম। 
এখন যা লিখছি, পড়ছি
ক্যান্সার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আমার লেখায় যেন জোয়ার এলো। প্রতিনিয়ত লিখছি। লেখার প্রয়োজনে বহু কিছু পড়ছি। এখন লিখছি ‘মায়াবাসি’ ও ‘লুমিনা’। লেখায় এখন গুগল, মোবাইল ফোন তথা প্রযুক্তি খুব আপন হয়ে উঠেছে। আমরা এত বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহার করি যে মনে হয় এটি ছাড়া অচল। লেখার কাজে যেহেতু মোবাইল ব্যবহার করি, একদিন মোবাইল ফোনের পিঠে হাত রেখে মনে হলো, একটা শিশু, মোবাইলটা আমি সাবধানে রাখলাম। এরপর লুমিনা উপন্যাস লেখার আইডিয়া মাথায় এলো। বর্তমান লেখায় গুগল, মোবাইল ফোন প্রভৃতি প্রযুক্তিকে চরিত্ররূপে কিংবা চরিত্রের প্রয়োজনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। 
মানুষের যে গুণ আকৃষ্ট করে
সব সময় সরলতাকে প্রাধান্য দিই। যত বড় মানুষ হন, যদি সাধারণ থাকেন, সরল থাকেন, আমাকে তিনি আকৃষ্ট করবেন।  
শক্তি ও সীমাবদ্ধতা
আমার সবচেয়ে বড় শক্তি সহজ হওয়া, সরল থাকা। চেষ্টা করেছি সরল থাকতে, ইগোহীন হতে এবং সবার সঙ্গে মিশতে। সরল থেকেছি বলে যে ঠকেছি তা কিন্তু নয়। নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে কিছু ভাবিনি। কখনও মনে হয় মানুষকে নির্বিশেষে বিশ্বাস করা হয়তোবা সীমাবদ্ধতা। আবার এটিও ঠিক, মানুষকে বিশ্বাস করে ভুল করিনি। 

গ্রন্থনা :: রিক্তা রিচি


 

আরও পড়ুন

×