কালের খেয়া কুইজ ১৫
কবি আবুল হাসান রচনাসমগ্র
×
আবুল হাসান (১৯৪৭-১৯৭৫)
--
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২১ | ১২:০০
আবুল হাসান বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি;যিনি ছিলেন বাংলা ভাষার ষাট দশকের জনপ্রিয় কবিদের একজন। সত্তর দশকেও ছিলেন সমানভাবে জনপ্রিয়।
১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন ফরিদপুর জেলার টুঙ্গিপাড়ার বর্নি গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন কবি আবুল হাসান। ১৯৬৫ সালে তিনি ব্রজমোহন মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হলেও পাঠ শেষ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই হাসান যাপনে ও চর্চায় গভীরভাবে কবিতার দিকে ঝুঁকে পড়েন। এ সময় তিনি ঢাকার তরুণ কবিদের প্রত্যক্ষ সান্নিধ্যে আসেন এবং ধীরে ধীরে পদার্পণ করেন 'উদ্বাস্তু-উন্মূল' যৌবনে। পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেলে আবুল হাসান অর্থের প্রয়োজনে পত্রিকায় চাকরি নেন। ১৯৬৯ সালের প্রথম দিকে তিনি দৈনিক 'ইত্তেফাক'-এ বার্তা বিভাগে সাংবাদিকতা শুরু করেন। মাত্র তিন মাস পরে তিনি এ চাকরিও ছেড়ে দেন। এরপর একে একে 'গণবাংলা', 'জনপদ', 'গণকণ্ঠ' পত্রিকায় কাজ করলেও কোনো পত্রিকাতেই তিনি একটানা বেশিদিন কাজ করেননি।
১৯৭০ সালটি আবুল হাসানের জীবনে বিশেষ তাৎপর্যবহ। কারণ কবিতার জন্য এ সময় তিনি সমগ্র এশিয়াভিত্তিক এক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন। পরে ওই কবিতাটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত সমগ্র পৃথিবীর প্রতিনিধিত্বশীল কবিদের কবিতা-সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত 'পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিতা' (১৯৭০) শীর্ষক ওই গ্রন্থে তদানীন্তন পাকিস্তানের একমাত্র প্রতিনিধি কবি আবুল হাসানের কবিতা স্থান পেয়েছিল।
শৈশব থেকেই আবুল হাসান বাতজ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। কখনও সুচিকিৎসা হয়নি বলে যৌবনে পদার্পণের আগেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাঁর হৃদপি সম্প্রসারণজনিত ব্যাধি প্রথম ধরা পড়ে ১৯৭০ সালে। ওই সময় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে মুক্তিলাভের পর অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আবুল হাসানকে দ্রুত হৃদরোগে জর্জরিত করে তোলে। অসুস্থ অবস্থাতেই আবুল হাসানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাজা যায় রাজা আসে' প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে। তার কিছুদিন পরেই বের হয় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'যে তুমি হরণ করো'। হাসপাতালের বেডে শুয়ে আবুল হাসান তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ 'পৃথক পালঙ্ক'র পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন। মৃত্যুর দশ বছর পর ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয় 'আবুল হাসানের অগ্রন্থিত কবিতা'। মূলত কবি হলেও আবুল হাসান বেশ কিছু সার্থক ছোটগল্পও রচনা করেছেন। তবে জীবিত অবস্থায় তাঁর কোনো গল্প-সংকলন প্রকাশিত হয়নি। 'ওরা কয়েকজন' নামে একটি কাব্যনাটক লিখেছিলেন তিনি।
১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে তিনি পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেবার পি.জি. হাসপাতালের চিকিৎসায় আরোগ্যলাভের কোনো সম্ভাবনা দেখা না দেয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে বিদেশে যাবার পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় কয়েক বন্ধুর আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
বিদেশ থেকে ফিরে এসে কিছুদিন ভালো থাকলেও ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে আবার তিনি চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৪ নভেম্বর পি. জি. হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে বুকের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করেও তিনি লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। অবশেষে ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর মাত্র আটাশ বছর বয়সে আবুল হাসান মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তিনি ১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮২ সালে একুশে পদক লাভ করেন। স্বল্প-পরিসর জীবনে মাত্র দশ বছরের সাহিত্য-সাধনায় আবুল হাসান নির্মাণ করেছেন এক ঐশ্বর্যময় সৃষ্টিসম্ভার, যার ভেতর দিয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন যুগ যুগ ধরে।
প্রশ্ন
১। আবুল হাসানের ডাকনাম কী ছিল?
২। তিনি কোন কবিতার জন্য এশিয়াভিত্তিক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন?
৩। চিকিৎসার জন্য তাকে কোন দেশে পাঠানো হয়েছিলো?
কুইজ ১৪-এর উত্তর
১। গাওদিয়া গ্রাম।
২। কুসুম।
৩। গাবর্ধনের নৌকায়।
কুইজ-১৪ এর জয়ী
সুমন ইসলাম
একাডেমি রোড, ফেনী।
সালাউদ্দিন মাহমুদ
ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ।
রফিক উদ্দিন লস্কর
নিতাইনগর, হাইলাকান্দি, আসাম, ভারত।
নিয়ম
পাঠক কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ২২ জুন মঙ্গলবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।
১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন ফরিদপুর জেলার টুঙ্গিপাড়ার বর্নি গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন কবি আবুল হাসান। ১৯৬৫ সালে তিনি ব্রজমোহন মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হলেও পাঠ শেষ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই হাসান যাপনে ও চর্চায় গভীরভাবে কবিতার দিকে ঝুঁকে পড়েন। এ সময় তিনি ঢাকার তরুণ কবিদের প্রত্যক্ষ সান্নিধ্যে আসেন এবং ধীরে ধীরে পদার্পণ করেন 'উদ্বাস্তু-উন্মূল' যৌবনে। পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেলে আবুল হাসান অর্থের প্রয়োজনে পত্রিকায় চাকরি নেন। ১৯৬৯ সালের প্রথম দিকে তিনি দৈনিক 'ইত্তেফাক'-এ বার্তা বিভাগে সাংবাদিকতা শুরু করেন। মাত্র তিন মাস পরে তিনি এ চাকরিও ছেড়ে দেন। এরপর একে একে 'গণবাংলা', 'জনপদ', 'গণকণ্ঠ' পত্রিকায় কাজ করলেও কোনো পত্রিকাতেই তিনি একটানা বেশিদিন কাজ করেননি।
১৯৭০ সালটি আবুল হাসানের জীবনে বিশেষ তাৎপর্যবহ। কারণ কবিতার জন্য এ সময় তিনি সমগ্র এশিয়াভিত্তিক এক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন। পরে ওই কবিতাটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত সমগ্র পৃথিবীর প্রতিনিধিত্বশীল কবিদের কবিতা-সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত 'পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিতা' (১৯৭০) শীর্ষক ওই গ্রন্থে তদানীন্তন পাকিস্তানের একমাত্র প্রতিনিধি কবি আবুল হাসানের কবিতা স্থান পেয়েছিল।
শৈশব থেকেই আবুল হাসান বাতজ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। কখনও সুচিকিৎসা হয়নি বলে যৌবনে পদার্পণের আগেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাঁর হৃদপি সম্প্রসারণজনিত ব্যাধি প্রথম ধরা পড়ে ১৯৭০ সালে। ওই সময় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে মুক্তিলাভের পর অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আবুল হাসানকে দ্রুত হৃদরোগে জর্জরিত করে তোলে। অসুস্থ অবস্থাতেই আবুল হাসানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাজা যায় রাজা আসে' প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে। তার কিছুদিন পরেই বের হয় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'যে তুমি হরণ করো'। হাসপাতালের বেডে শুয়ে আবুল হাসান তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ 'পৃথক পালঙ্ক'র পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন। মৃত্যুর দশ বছর পর ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয় 'আবুল হাসানের অগ্রন্থিত কবিতা'। মূলত কবি হলেও আবুল হাসান বেশ কিছু সার্থক ছোটগল্পও রচনা করেছেন। তবে জীবিত অবস্থায় তাঁর কোনো গল্প-সংকলন প্রকাশিত হয়নি। 'ওরা কয়েকজন' নামে একটি কাব্যনাটক লিখেছিলেন তিনি।
১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে তিনি পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেবার পি.জি. হাসপাতালের চিকিৎসায় আরোগ্যলাভের কোনো সম্ভাবনা দেখা না দেয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে বিদেশে যাবার পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় কয়েক বন্ধুর আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
বিদেশ থেকে ফিরে এসে কিছুদিন ভালো থাকলেও ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে আবার তিনি চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৪ নভেম্বর পি. জি. হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে বুকের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করেও তিনি লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। অবশেষে ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর মাত্র আটাশ বছর বয়সে আবুল হাসান মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তিনি ১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮২ সালে একুশে পদক লাভ করেন। স্বল্প-পরিসর জীবনে মাত্র দশ বছরের সাহিত্য-সাধনায় আবুল হাসান নির্মাণ করেছেন এক ঐশ্বর্যময় সৃষ্টিসম্ভার, যার ভেতর দিয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন যুগ যুগ ধরে।
প্রশ্ন
১। আবুল হাসানের ডাকনাম কী ছিল?
২। তিনি কোন কবিতার জন্য এশিয়াভিত্তিক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন?
৩। চিকিৎসার জন্য তাকে কোন দেশে পাঠানো হয়েছিলো?
কুইজ ১৪-এর উত্তর
১। গাওদিয়া গ্রাম।
২। কুসুম।
৩। গাবর্ধনের নৌকায়।
কুইজ-১৪ এর জয়ী
সুমন ইসলাম
একাডেমি রোড, ফেনী।
সালাউদ্দিন মাহমুদ
ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ।
রফিক উদ্দিন লস্কর
নিতাইনগর, হাইলাকান্দি, আসাম, ভারত।
নিয়ম
পাঠক কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ২২ জুন মঙ্গলবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।
- বিষয় :
- কবি আবুল হাসান