ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একদিকে অন্ধ, অন্যদিকে হাইওয়ান

একদিকে অন্ধ, অন্যদিকে হাইওয়ান
×

হাইওয়ান সিনেমায় শিশুশিল্পীর সঙ্গে সাইফ আলি খান

সাইফান সানাফ

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রিয়দর্শনের সিনেমা মানে হাসি, মজাদার সংলাপ আর চেনা ধরনের কমেডি। বলিউডে এমন একটি ধারণা অনেক দিনের। এবার সেই পরিচিত ছক থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছেন নির্মাতা। তাঁর নতুন সিনেমা ‘হাইওয়ান’-এ নেই হাসির আবহ; বরং রয়েছে অন্ধকার, ভয় আর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন। এই গল্পের সবচেয়ে বড় চমক, দেড় যুগ পর একসঙ্গে পর্দায় ফিরছেন অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলি খান। ২০০৮ সালে ‘তাশান’ সিনেমার পর এ দুই তারকাকে আর একসঙ্গে দেখা যায়নি। তবে এবার তারা কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ জুটি নন। বরং মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছেন দুজন সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্রে। একজন অন্ধ অথচ অসাধারণ যোদ্ধা, অন্যজন ঠান্ডা মাথার ভয়ংকর খুনি। সিনেমায় সাইফ আলি খান অভিনয় করেছেন একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কালারিপায়াততু বিশেষজ্ঞের চরিত্রে। চোখে দেখতে পান না তিনি। অন্ধত্ব তাঁর শক্তিকে দুর্বল করেনি। বরং শব্দ, স্পর্শ ও আশপাশের সামান্যতম নড়াচড়া বুঝে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে করে তুলেছে ভয়ংকর এক প্রতিপক্ষ। অন্যদিকে অক্ষয় কুমারকে দেখা যাবে একেবারে ভিন্নরূপে। এতদিন নায়ক হিসেবে যাকে দেখেছেন দর্শক, এবার সেই অক্ষয় হাজির হচ্ছেন সাইকোপ্যাথ খুনির ভূমিকায়। তাঁর চরিত্রের মধ্যে নেই অনুশোচনা কিংবা সহানুভূতি। ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা যার লক্ষ্য। ফলে দুই চরিত্রের দ্বন্দ্ব হয়ে উঠেছে সিনেমার মূল চালিকাশক্তি। অক্ষয়ের হিংস্রতা আর সাইফের অন্ধত্ব এই আপাত দুর্বলতা ও শক্তির বিপরীত সমীকরণ ‘হাইওয়ান’কে আলাদা করে তুলেছে। 
‘হাইওয়ান’ সিনেমাটি মূলত একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের ছোট্ট মেয়েকে ঘিরে তৈরি হয়েছে। এক নির্মম খুনি কোনো এক কারণে শিশুটিকে হত্যা করতে চায়। তার হাত থেকে শিশুটিকে বাঁচানোর দায়িত্ব এসে পড়ে দৃষ্টিহীন সেই ব্যক্তির ওপর। এরপর শুরু হয় পালিয়ে বাঁচার লড়াই। চোখে দেখতে না পাওয়া একজন মানুষ কীভাবে শব্দ, স্পর্শ, উপস্থিতির আভাস এবং নিজের মার্শাল আর্ট দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নির্মম এক খুনির মোকাবিলা করবেন। 
সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে ২০১৬ সালে নির্মিত মালয়ালম সিনেমা ‘ওপাম’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। ‘ওপাম’ সিনেমায় মোহনলাল অভিনয় করেছিলেন দৃষ্টিপ্রতিন্ধীর চরিত্রে। এবার সেই গল্প হিন্দি ভাষায় নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন প্রিয়দর্শন। তবে শুধু ভাষা পরিবর্তনে থেমে থাকেননি নির্মাতা। হিন্দি সংস্করণে গল্পের গতি, চরিত্র এবং অ্যাকশন দৃশ্যেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে খলনায়ক চরিত্রকে কেন্দ্র করে সিনেমাটিতে আরও প্রাণবন্ত করার চেষ্টা করেছেন। প্রিয়দর্শনের জন্যও এটি এক ধরনের পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে কমেডিকে নিজের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা এ নির্মাতা এবার দর্শককে হাসানোর বদলে আতঙ্কিত করতে চাইছেন। রহস্য, অ্যাকশন ও মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনার ওপর তাই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। 
‘হাইওয়ান’-এর প্রচারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অক্ষয় ও সাইফের পুনর্মিলন। ‘তাশান’-এর পর দুজনের ক্যারিয়ার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। অক্ষয় একের পর এক অ্যাকশন, কমেডি ও সামাজিক গল্পে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অন্যদিকে সাইফ আলি খানও মূলধারার সিনেমার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজ ও ভিন্নধারার চরিত্রে নিজের অভিনয়ের পরিসর বাড়িয়েছেন। এবার তাদের একসঙ্গে ফেরানো হলেও চেনা জুটির আবহ তৈরি করেননি প্রিয়দর্শন। বরং দুজনকে দাঁড় করিয়েছেন একে অপরের বিপরীতে। ফলে ‘হাইওয়ান’-এ তাদের রসায়নের চেয়ে সংঘাত বড় আকর্ষণ। 
অক্ষয় ও সাইফের পাশাপাশি সিনেমাটিতে রয়েছেন বোমান ইরানি, সাইয়ামি খের, শ্রিয়া পিলগাঁওকর ও শারিব হাশমি। তবে সিনেমার আরেকটি চমক মালয়ালম সুপারস্টার মোহনলাল। ‘ওপাম’-এর মূল অভিনেতা হিসেবে তাঁর উপস্থিতি নতুন সংস্করণে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সিনেমায় তাঁর ক্যামিও নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও কম নয়। সিনেমার সংগীতের দায়িত্বে রয়েছেন প্রীতম। 
অন্যদিকে ‘হাইওয়ান’ শুধু অক্ষয়-সাইফের পুনর্মিলন নয়, এটি প্রিয়দর্শনের জন্যও একটি  পরীক্ষা বটে। একজন অন্ধ মানুষের ইন্দ্রিয়নির্ভর লড়াইকে কীভাবে বড়পর্দার অ্যাকশন ও থ্রিলারের ভাষায় তুলে ধরা যায়, সেটি এখানে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে অক্ষয় কুমারের মতো জনপ্রিয় নায়ককে পুরোপুরি নেতিবাচক চরিত্রে উপস্থাপন করাও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দর্শক তাঁকে নায়ক হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত। এবার সেই পরিচিত ইমেজ ভেঙে তাঁকে একজন নির্মম খুনির ভূমিকায় গ্রহণ করেন কিনা, সেটিও সিনেমার সাফল্যের অন্যতম বিষয়। 
অন্যদিকে সাইফের চরিত্রটিও সহজ নয়। চোখে দেখতে না পাওয়া একজন মানুষকে কেন্দ্র করে অ্যাকশন নির্মাণে দৃশ্যমানতার বদলে শব্দ, অনুভূতি ও অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হবে। এই দুই বিপরীত শক্তির সংঘর্ষ শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে–আসল ‘হাইওয়ান’ কে? সেই উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত। কারণ আগামীকাল সিনেমাটি ভারতজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×