দুই বছর ধরে লিভিং রুমের সোফায় পড়েছিল মৃতদেহ। কিন্তু আশেপাশের বাড়ির কেউ তা জানতো না! এমনকী জানতো তার আত্মীয় স্বজনও। কারণ এই সময়ের মধ্যে কেউ তার ফ্ল্যাটে আসেননি। কিন্তু হাউজিং সোসাইটি টানা ২৪ মাস ধরে ভাড়া নিয়ে গেছে ফ্ল্যাটটির। প্রতি মাসের এক তারিখে হাউজিং সোসাইটির অ্যাকাউন্টে চলে গেছে ভাড়ার অর্থ।

ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের। সোফায় পড়ে থাকা ৫৮ বছরের শীলা সিলিওনের মৃতদেহ অর্থাৎ কঙ্কাল উদ্ধার করা হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। তবে সম্প্রতি ওই ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।  

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পড়ে থাকা কঙ্কালের দাঁতের ডিএনএ পরীক্ষা করে জানা যায় ওটি শীলারই মৃতদেহ ছিল। পরীক্ষায় এও জানা যায়, দু’‌বছরের বেশি সময় ধরে তিনি মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। এ ঘটনায় হাউজিং সোসাইটির গাফিলতি নিয়ে মামলাও হয়। শুনানিতে এসে ক্ষমাও চেয়ে যায় হাউজিং সোসাইটি কর্তৃপক্ষ।

কীভাবে ওই  নারীর মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তে স্পষ্ট হয়নি । তবে লন্ডনের আদালতে মৃত ওই নারীর পরিবারের আইনজীবীরা জানান, ওই নারী অন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন।

দুই বছর ধরে এভাবে একজনের মৃতদেহ শনাক্ত না হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তারাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের একজন বলেন, যেকোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। তবে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মৃত্যুর খবর এভাবে শনাক্ত না হওয়ার কথা ভাবাই যায় না।

জানা গেছে, ওই নারী বাড়িতে একাই থাকতেন। আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গেও খুব একটা মিশতেন না। শেষবার তাকে জীবিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল, ২০১৯ সালের আগস্টে। ওই সময় চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। তারপর আর কেউ তাকে জীবিত অবস্থায় দেখতে পায়নি। দু’‌বছর পর তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

২০২০ সালের অক্টোবরে পুলিশ দুইবার সিলিওনের সঙ্গে যোগাযোগে চেষ্টা করে। কিন্তু কোনও উত্তর পায়নি। কিন্তু ওই বাড়িতে জোর করে ঢোকার কোনো নির্দেশও তাদের কাছে ছিল না।

তদন্তে জানা গেছে, ওই সময় তার বাড়ির মালিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তিনি ভালো ও নিরাপদে আছেন।

এদিকে ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে ভাড়া পরিশোধের জন্য বারবার ভয়েসমেল এবং ইমেল দেওয়া হচ্ছিল সেলিওনকে। কিন্তু কোনো উত্তর পায়নি হাউজিং সোসাইটি। তারপর ২০২০ সালে মার্চ থেকে সংস্থাটি ওই নারীর ইউনিভার্সাল ক্রেডিট সুবিধা থেকে ভাড়ার অর্থ কাটা শুরু করে। এমনকি ২০২০ সালের জুনে ওই নারীর গ্যাসের লাইনও কেটে দেওয়া হয়। সব জেনেও হাউজিং সোসাইটি শুধু ভাড়া আদায়ের জন্য এতদিন চুপ ছিল কীনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।