ইউরেনিয়াম পরিবহনে সতর্কতা জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম রডের প্রথম চালান সেপ্টেম্বর নাগাদ দেশে আসিতেছে। আগামী বৎসর অত্যাধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে আসিলে আশা করা যাইতেছে যে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হইবে। ইহার ফলে গতিশীল হইবে অর্থনীতি। কাজেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির অগ্রগতি শুভবার্তা প্রদান করিতেছে। আশঙ্কার বিষয়, ইউরেনিয়াম রড উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় পদার্থ। ইহার পরিবহন ও সংরক্ষণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
৯০ শতাংশ বিদেশি ঋণনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে ২৮ বছর ধরিয়া সুদাসল পরিশোধ করিতে হইবে। হয়তো জনস্বার্থ বিবেচনা করিয়া ইহার সহিত বীমার কিস্তির খরচ বাড়াইতে চায় নাই সরকার। যদি দুর্ঘটনা ঘটিয়া যায় তাহা হইলে বীমা প্রতিষ্ঠান বা সরকার যাহারাই আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিক না কেন, পরিবেশ-প্রতিবেশের যে ভয়াবহ ক্ষতি হইয়া যাইবে, তাহা পূরণ হইবার নহে।
ইউরেনিয়াম রড বৈজ্ঞানিক পন্থায় সতর্কতার সহিত পরিবহন করিতে হয়। এই ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত নির্দেশনা শতভাগ অনুসরণ করিবার বিকল্প নাই। ইহা কোনো কারণে উন্মুক্ত হইলে বৃহৎ দুর্ঘটনার কারণ হইয়া দাঁড়াইবে। প্রাণহানির পাশাপাশি পরিবেশ-প্রতিবেশের উপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলিবে। জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার প্রভাব এখনও রহিয়া গিয়াছে। কাজেই এই তেজস্ক্রিয় জ্বালানি পরিবহনে বিন্দু পরিমাণ আপস করিবার অবকাশ নাই। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে আসিবার পরও দফায় দফায় জ্বালানি আনিতে হইবে। তাই স্থায়ী নিরাপত্তার জন্য বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সহায়তা লওয়া যাইতে পারে।
- বিষয় :
- ইউরেনিয়াম পরিবহন
- সম্পাদকীয়