সংবিধান
রাষ্ট্রধর্মের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া প্রেক্ষিত
×
আমীন আল রশীদ
প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০
মানুষের ধর্ম থাকে; রাষ্ট্রের নয়। তারপরও বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রধর্মের সাংবিধানিক স্বীকৃতি রয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি দেশে ইসলাম সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রধর্ম আর ১৩টি দেশে রাষ্ট্রধর্ম খ্রিষ্ট। দুটি দেশে বৌদ্ধ ধর্ম হচ্ছে রাষ্ট্রধর্ম আর ইসরায়েলের রাষ্ট্রধর্ম ইহুদি। এগুলো সেসব দেশ সাংবিধানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। এর বাইরে অনেক দেশের সংবিধান কোনো ধর্মকে সরাসরি রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা না করলেও বিশেষ একটি ধর্মকে অন্য ধর্মের ওপরে স্থান দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে সেসব দেশেও রাষ্ট্রধর্ম আছে বলে মনে করা হয় (পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণাপত্র, ৩ অক্টোবর ২০১৭)।
বাংলাদেশেও বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গে রাষ্ট্রধর্ম আলোচনায় আসে; যে অনুচ্ছেদটি যুক্ত করেছিলেন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে (১৯৮৮ সালের ৩০ নম্বর আইনের ২ ধারাবলে)। এই সংশোধনীটি সর্বোচ্চ আদালত অবৈধ বলে রায় দিলেও রাষ্ট্রধর্ম বহাল রয়েছে। ফলে যে প্রশ্নটি বারবার সামনে আসছে তা হলো, সংবিধানের মূলনীতি (ধর্মনিরপেক্ষতা) এবং ১২ অনুচ্ছেদের (রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দেবে না) সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক রাষ্ট্রধর্মের বিধান রেখে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়া আদৌ সম্ভব কিনা? সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে দেখা যাক রাষ্ট্রধর্ম ইস্যুতে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সাংবিধানিক অবস্থান কী?
দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে রাষ্ট্রধর্ম আছে চারটি দেশে- বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপ। এসব দেশের সংবিধানে ইসলামকে সরাসরি রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সংবিধানে বৌদ্ধ ধর্মকে সরাসরি রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা না হলেও বৌদ্ধ ধর্মকে অন্য ধর্মের ওপরে স্থান দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বাকি দুটি দেশ ভারত ও নেপালের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের বিধান নেই।
অবশ্য ২০১৫ সালে নেপালে হিন্দু ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনা হলেও সেটি বাতিল করা হয় এবং এই ইস্যুতে হিন্দুদের একটি অংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় (যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক রিপোর্ট, ২০১৫)।
পাকিস্তানের সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম।' বাংলাদেশেও রাষ্ট্রধর্মের বিধান রয়েছে সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে। যদিও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের দাবি, বাংলাদেশ রাষ্ট্রধর্মের ধারণাটি নিয়েছে মালয়েশিয়ার কাছ থেকে (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, আইনবিষয়ক প্রবন্ধাবলি, পৃষ্ঠা ৫১৫)।
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম সম্পর্কিত অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- 'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন।' সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর সময়ে বাক্যটি পরিবর্তন করা হয়। যখন সংবিধানে এই অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয় তখন বাক্যটি ছিল এ রকম- 'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে।' তার মানে পঞ্চদশ সংশোধনীর সময় রাষ্ট্রধর্মের বিধানটি বাতিল করা না হলেও কিছুটা সর্বজনীন করার চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হলেও অন্য ধর্মের সমঅধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি রাষ্ট্রের কর্তব্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রধর্ম ইস্যুটা শুরু থেকেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ১৯৮৮ সালে এইচএম এরশাদ সংবিধান সংশোধন করে এই বিধান যুক্ত করার পরেই এটিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক। যদিও ২০১৬ সালের ৮ মার্চ রিটটি খারিজ হয়ে যায়।
ওদিকে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে মালদ্বীপের সংবিধান বলছে- মালদ্বীপের সব আইনের অন্যতম ভিত্তি হবে ইসলাম এবং সে দেশে ইসলামবিরোধী কোনো আইন করা হবে না।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রধর্ম ইস্যুতে সবচেয়ে কট্টর আফগানিস্তানের সংবিধান। দেশটির সংবিধানের শুরুতে অর্থাৎ প্রস্তাবনায় লেখা হয়েছে- 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম'। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের প্রায় অনুরূপ। দেশটির সংবিধানের ২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- আফগানিস্তানের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং আইনি বিধিনিষেধ মেনে অন্য ধর্মের লোকেরা ধর্ম পালন করতে পারবেন। তার মানে, ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের মানুষ আফগানিস্তানে ধর্ম পালনে স্বাধীন নন।
ভুটানের সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- বৌদ্ধ ধর্ম হলো ভুটানের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, যা শান্তি, অহিংসা, সহানুভূতি ও সহনশীলতার মূল্যবোধ প্রচার করে। ভুটানের রাজাকে সব ধর্মের রক্ষাকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার সংবিধানের ৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- শ্রীলঙ্কা বৌদ্ধ ধর্মকে সর্বাগ্রে স্থান দেবে এবং বৌদ্ধ ধর্মের সুরক্ষা রাষ্ট্রের কর্তব্য। তবে এর পরের অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছে- প্রত্যেক ব্যক্তির চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে।
ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- প্রত্যেক নাগরিকের বিবেকের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন, অনুশীলন ও প্রচারের সমান অধিকার রয়েছে।
ভারতে রাষ্ট্রধর্ম না থাকলেও বিশ্বের সর্বাধিক হিন্দু অধ্যুষিত এই দেশে ধর্মের নামে কী হয়, সেটি কারও অজানা নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রশ্রয়ে হিন্দুত্ববাদ যেভাবে মাথাচাড়া দিয়েছে এবং বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর যে ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের খবর প্রায়ই গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়, তাতে বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তার মানে, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম আছে কি নেই, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন সরকার বা নীতিনির্ধারকরা ধর্মকে কীভাবে ব্যবহার করছেন এবং সব ধর্মের মানুষের প্রতি তাঁদের আচরণ কেমন।
সাংবিধানিকভাবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। কিন্তু সে দেশে ধর্মের নামেই সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদের সামনে এমনকি মসজিদের ভেতরে বোমা হামলা লিখে গুগলে সার্চ দিলে পাকিস্তানের অসংখ্য খবরের শিরোনাম দৃশ্যমান হবে। একটা সময় পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল, শুক্রবার মানেই দেশটির কোথাও না কোথাও বোমা হামলায় অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি। তার মানে, ধর্ম সে দেশের মানুষকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ।
আমীন আল রশীদ :সাংবাদিক ও লেখক
বাংলাদেশেও বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গে রাষ্ট্রধর্ম আলোচনায় আসে; যে অনুচ্ছেদটি যুক্ত করেছিলেন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে (১৯৮৮ সালের ৩০ নম্বর আইনের ২ ধারাবলে)। এই সংশোধনীটি সর্বোচ্চ আদালত অবৈধ বলে রায় দিলেও রাষ্ট্রধর্ম বহাল রয়েছে। ফলে যে প্রশ্নটি বারবার সামনে আসছে তা হলো, সংবিধানের মূলনীতি (ধর্মনিরপেক্ষতা) এবং ১২ অনুচ্ছেদের (রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দেবে না) সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক রাষ্ট্রধর্মের বিধান রেখে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়া আদৌ সম্ভব কিনা? সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে দেখা যাক রাষ্ট্রধর্ম ইস্যুতে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সাংবিধানিক অবস্থান কী?
দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে রাষ্ট্রধর্ম আছে চারটি দেশে- বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপ। এসব দেশের সংবিধানে ইসলামকে সরাসরি রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সংবিধানে বৌদ্ধ ধর্মকে সরাসরি রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা না হলেও বৌদ্ধ ধর্মকে অন্য ধর্মের ওপরে স্থান দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বাকি দুটি দেশ ভারত ও নেপালের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের বিধান নেই।
অবশ্য ২০১৫ সালে নেপালে হিন্দু ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনা হলেও সেটি বাতিল করা হয় এবং এই ইস্যুতে হিন্দুদের একটি অংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় (যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক রিপোর্ট, ২০১৫)।
পাকিস্তানের সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম।' বাংলাদেশেও রাষ্ট্রধর্মের বিধান রয়েছে সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে। যদিও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের দাবি, বাংলাদেশ রাষ্ট্রধর্মের ধারণাটি নিয়েছে মালয়েশিয়ার কাছ থেকে (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, আইনবিষয়ক প্রবন্ধাবলি, পৃষ্ঠা ৫১৫)।
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম সম্পর্কিত অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- 'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন।' সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর সময়ে বাক্যটি পরিবর্তন করা হয়। যখন সংবিধানে এই অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয় তখন বাক্যটি ছিল এ রকম- 'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে।' তার মানে পঞ্চদশ সংশোধনীর সময় রাষ্ট্রধর্মের বিধানটি বাতিল করা না হলেও কিছুটা সর্বজনীন করার চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হলেও অন্য ধর্মের সমঅধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি রাষ্ট্রের কর্তব্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রধর্ম ইস্যুটা শুরু থেকেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ১৯৮৮ সালে এইচএম এরশাদ সংবিধান সংশোধন করে এই বিধান যুক্ত করার পরেই এটিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক। যদিও ২০১৬ সালের ৮ মার্চ রিটটি খারিজ হয়ে যায়।
ওদিকে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে মালদ্বীপের সংবিধান বলছে- মালদ্বীপের সব আইনের অন্যতম ভিত্তি হবে ইসলাম এবং সে দেশে ইসলামবিরোধী কোনো আইন করা হবে না।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রধর্ম ইস্যুতে সবচেয়ে কট্টর আফগানিস্তানের সংবিধান। দেশটির সংবিধানের শুরুতে অর্থাৎ প্রস্তাবনায় লেখা হয়েছে- 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম'। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের প্রায় অনুরূপ। দেশটির সংবিধানের ২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- আফগানিস্তানের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং আইনি বিধিনিষেধ মেনে অন্য ধর্মের লোকেরা ধর্ম পালন করতে পারবেন। তার মানে, ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের মানুষ আফগানিস্তানে ধর্ম পালনে স্বাধীন নন।
ভুটানের সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- বৌদ্ধ ধর্ম হলো ভুটানের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, যা শান্তি, অহিংসা, সহানুভূতি ও সহনশীলতার মূল্যবোধ প্রচার করে। ভুটানের রাজাকে সব ধর্মের রক্ষাকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার সংবিধানের ৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- শ্রীলঙ্কা বৌদ্ধ ধর্মকে সর্বাগ্রে স্থান দেবে এবং বৌদ্ধ ধর্মের সুরক্ষা রাষ্ট্রের কর্তব্য। তবে এর পরের অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছে- প্রত্যেক ব্যক্তির চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে।
ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- প্রত্যেক নাগরিকের বিবেকের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন, অনুশীলন ও প্রচারের সমান অধিকার রয়েছে।
ভারতে রাষ্ট্রধর্ম না থাকলেও বিশ্বের সর্বাধিক হিন্দু অধ্যুষিত এই দেশে ধর্মের নামে কী হয়, সেটি কারও অজানা নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রশ্রয়ে হিন্দুত্ববাদ যেভাবে মাথাচাড়া দিয়েছে এবং বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর যে ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের খবর প্রায়ই গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়, তাতে বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তার মানে, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম আছে কি নেই, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন সরকার বা নীতিনির্ধারকরা ধর্মকে কীভাবে ব্যবহার করছেন এবং সব ধর্মের মানুষের প্রতি তাঁদের আচরণ কেমন।
সাংবিধানিকভাবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। কিন্তু সে দেশে ধর্মের নামেই সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদের সামনে এমনকি মসজিদের ভেতরে বোমা হামলা লিখে গুগলে সার্চ দিলে পাকিস্তানের অসংখ্য খবরের শিরোনাম দৃশ্যমান হবে। একটা সময় পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল, শুক্রবার মানেই দেশটির কোথাও না কোথাও বোমা হামলায় অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি। তার মানে, ধর্ম সে দেশের মানুষকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ।
আমীন আল রশীদ :সাংবাদিক ও লেখক
- বিষয় :
- সংবিধান
- আমীন আল রশীদ