চোরাই গরু কী উপায়ে আসিতেছে?
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কক্ষে কর্মচারীরা - সমকাল
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৩ | ১৮:০০
বাংলাদেশের জাতীয় একটি উৎসব কি চোরাকারবারিদের মওকা হইয়া উঠিল? কোরবানির ঈদ সামনে রাখিয়া চোরাই পথে ভারত ও মিয়ানমার হইতে গরু আসিবার খবরটি আমাদিগকে উদ্বিগ্ন করিয়াছে। চোরাই গরু দেশে আনিয়া সীমান্ত হাটে প্রকাশ্যে বিক্রয় করিলেও তাহাদের আইনের আওতায় কেন লওয়া হইতেছে না? এইবার কোরবানির জন্য ২১ লক্ষাধিক দেশীয় গরু প্রস্তুত। এই জন্য খামারি ও কৃষকদের ধন্যবাদ দিতেই হয়। কিন্তু তাঁহাদের মেহনতের ফলে বখরা বসাইতেছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।
কয়েক বৎসর ধরিয়া গরু আমদানি বন্ধ থাকিলেও প্রতিবছর কোরবানিতে চাহিদা মিটাইবার পরও ২০ লক্ষাধিক গরু উদ্বৃত্ত থাকে বলিয়া সমকালে প্রকাশিত সংবাদে বলা হইয়াছে। সীমান্ত রক্ষা বাহিনী তৎপর থাকিলে এবং কতিপয় সদস্যের অশুভ আঁতাত বন্ধ হইলে চোরাকারবারিদের বাণিজ্য বন্ধ করা যাইতে পারে। কিন্তু ওই ‘তৎপরতা’রই বড় অভাব।
এমনিতেই গোখাদ্যের মূল্য দিন দিন বাড়িতে থাকায় খামারিরা টিকিয়া থাকিতে হিমশিম খাইতেছেন। এই সকল খাদ্য আমদানিনির্ভর হওয়ায় একটি সিন্ডিকেটের হাতে উহার নিয়ন্ত্রণ রহিয়াছে বলিয়া অভিযোগ। গোখাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উহার প্রভাব মাংসের উপরেও পড়িতেছে। ইহার ফলে শুধু নিম্নবিত্ত নহে; মধ্যবিত্তও প্রাণিজ আমিষ হইতে বঞ্চিত হইতেছে। অপরদিকে পশু মোটাতাজাকরণের নামে অনেক খামারি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক ইনজেকশন পুশ করেন। এই সকল পশুর মাংস খাইয়া মানুষ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হইতে পারেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উচিত এইদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া।
গৃহে পশুপালনে আত্মকর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করিত সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হইয়াছে। তৎসঙ্গে দেশীয় খামারিদের স্বার্থে বিদেশি গরু আমদানি নিষিদ্ধ করা হইয়াছে। এ অবস্থায় অবৈধ পথে বিদেশি গরু আসিতে থাকিলে দেশীয় খামারিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হইবেন। এই কারণেই গরু চোরাচালান বন্ধ করা জরুরি।