ইসলাম ও সমাজ
রহমানের বান্দাদের গুণাবলি
মো. শাহজাহান কবীর
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
মহান আল্লাহর অসংখ্য নামের একটি হলো ‘রহমান’। অর্থাৎ পরম করুণাময়। যিনি দুনিয়ায় মুমিন-কাফির সবাইকে দয়া করেন। এই রহমানের কিছু প্রিয় বান্দা আছে, যাদের আল্লাহতায়ালা নিজে ‘ইবাদুর রহমান’ বা রহমানের বান্দা বলে ডেকেছেন। সুরা ফুরকানের ৬৩ থেকে ৭৫ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় বান্দাদের ১২টি গুণ বর্ণনা করেছেন। এ গুণগুলো যার মধ্যে থাকবে, আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাতের সবচেয়ে উঁচু মাকাম দান করবেন।
আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বিশেষ গুণাবলি–
১. চলাফেরায় বিনয়ী হওয়া। সুরা ফুরকানের ৬৩ আয়াতে এরশাদ হয়েছে: ‘যারা জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করে।’ নম্রতার গুণ মানুষকে সুন্দর করে ও সম্মান বাড়িয়ে দেয়।
২. অজ্ঞদের সঙ্গে তর্কে না জড়ানো। সুরা ফুরকানের ৬৩ আয়াতে আরও ইরশাদ হয়েছে– অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদের লক্ষ্য করে অজ্ঞতাসুলভ কথা বলে, তখন তারা বলে ‘সালাম’। রাস্তায়, ফেসবুকে কেউ গালি দিলে বা তর্ক করতে এলে রহমানের বান্দা পাল্টা গালি দেয় না।
৩. তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা। সুরা ফুরকানের ৬৪ আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘যারা রাতযাপন করে তাদের পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দণ্ডায়মান অবস্থায়।’
৪. জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য দোয়া করা। সুরা ফুরকানের ৬৫ আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘যারা বলে, হে আমাদের রব, জাহান্নামের আজাব
আমাদের থেকে দূরে রাখুন।’ রহমানের বান্দা নিজেকে জান্নাতি মনে করে না। সে সবসময় জাহান্নামের
ভয়ে থাকে। সে শুধু নামাজ পড়ে ক্ষান্ত হয় না; আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে বলে, আল্লাহ আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।
৫. অপব্যয় ও কৃপণতা না করা এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। সুরা ফুরকানের ৬৭ আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘যখন তারা ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না,
কার্পণ্যও করে না, বরং তারা আছে এতদুভয়ের মাঝে মধ্যম পন্থায়।’
৬. শিরক থেকে বেঁচে থাকা। সুরা ফুরকানের ৬৮ আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্যের ইবাদত করে না।’
এটি রহমানের বান্দার সবচেয়ে বড় গুণ। রহমানের বান্দা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও উপাসনা করে না। কারও ওপর ভরসাও করে না। সে সব সময় শুধু আল্লাহর কাছেই সাহায্য চায়। তার ভরসা একমাত্র মহান আল্লাহর ওপর।
৭. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা না করা। সুরা ফুরকানের ৬৮ আয়াতে আরও এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ যে প্রাণকে মর্যাদা দান করেছেন, তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে না।’ সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও গোনাহর কাজ হচ্ছে অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা।
৮. ব্যভিচারে লিপ্ত না হওয়া। সুরা ফুরকানের ৬৮ আয়াতে আরও এরশাদ হয়েছে– ‘তারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না। আল্লাহর প্রিয় বান্দারা ব্যভিচার ও অশ্লীল কার্যকলাপে জড়িত হয় না। এমনকি তারা ব্যভিচারের নিকটবর্তীও হয় না।’
৯. মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়া। সুরা ফুরকানের ৭২ আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না।’
আল্লাহর প্রিয় বান্দারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না। কারণ এতে অন্যের ন্যায়সংগত অধিকার খর্ব হয় ও অন্যায়কে সাহায্য করা হয়; আর মিথ্যা সব পাপের জননী।
১০. অনর্থক কাজ পরিহার করা। সুরা ফুরকানের ৭২ আয়াতে আরও এরশাদ হয়েছে, ‘যখন কোনো অনর্থক কার্যকলাপের নিকট দিয়ে যায়, তখন আত্মসম্মান বাঁচিয়ে যায়।’
অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বেঁচে থাকা ইসলামের সৌন্দর্য। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো অর্থহীন কথা বা কাজ ত্যাগ করা।’ (জামে তিরমিজি)
১১. কোরআনের উপদেশ গ্রহণ করা। সুরা ফুরকানের ৭৩ আয়াতে আরও এরশাদ হয়েছে, ‘যারা তাদের প্রতিপালকের আয়াত স্মরণ করিয়ে দিলে এর প্রতি অন্ধ ও বধিরসদৃশ আচরণ করে না।’
১২. পরিবার ও সন্তানের জন্য দোয়া করা। সুরা ফুরকানের ৭৪ আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা বলে, হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করুন।’
রহমানের বান্দা শুধু নিজে ভালো হয় না। সে চায় তার স্ত্রী-সন্তানও ভালো হোক। তার প্রতিদিনের প্রার্থনা– আল্লাহ, আমার পরিবারকে দ্বীনদার বানাও; সন্তানকে দেখলে যেন আমার চোখ শীতল হয়। এসব গুণ যারা অর্জন করবে তাদের আল্লাহতায়ালা বিশেষ পুরস্কার দেবেন। আল্লাহতায়ালা সুরা ফুরকানের ৭৫ আয়াতে এরশাদ করেন, ‘এরাই তারা, যাদের তাদের ধৈর্যের প্রতিদানস্বরূপ জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদ দেওয়া হবে এবং সেখানে শুভেচ্ছা ও সালামের সঙ্গে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হবে।’
ড. মো. শাহজাহান কবীর: বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা
- বিষয় :
- ইসলাম প্রচার