ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সীমান্তে ‘পুশইন’ ও ছাত্রলীগ রুখতে কঠোর ব্যবস্থার দাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের

সীমান্তে ‘পুশইন’ ও ছাত্রলীগ রুখতে কঠোর ব্যবস্থার দাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের
×

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ১৯:৪১

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা প্রতিহত করা, প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা স্বৈরাচারের দোসরদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভারতের সীমান্তজুড়ে ‘পুশইন’ ও অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত হত্যা বন্ধে কঠোর কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা এসব দাবি জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ হওয়া ছাত্রলীগ দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বা ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো ধরনের আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। যদি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার চেষ্টা করেন, তবে ছাত্র-জনতা তাকে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তির মুখোমুখি করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের যেসব সাধারণ কর্মী কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন, বিচারের পর দেশের মানুষ সুযোগ দিলে তারা নতুন কোনো রাজনৈতিক ধারার মাধ্যমে ভালো রাজনীতিতে ফিরতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘অবৈধ পুশইন যদি বন্ধ না হয় তাহলে ছাত্র অধিকার পরিষদ সীমান্তে লংমার্চ দিবে অথবা ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও করবে। একইসঙ্গে বর্তমানে যে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে ও আওয়ামী লীগের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই জায়গাতে সরকারকে দৃষ্টান্তমূলক কর্মসূচি নিতে হবে।’

তিনি বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলেও তারা আবারও বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, হামলা ও সাধারণ মানুষকে রক্তাক্ত করছে। 

এছাড়াও তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ২০০০ এর অধিক শহীদ এবং হাজার হাজার আহতের পরিবার এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। কিন্তু গত ১০০ দিনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা অন্যান্য মামলায় দৃশ্যমান কোনো বিচারিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।’ তিনি এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি নেওয়াজ খান বাপ্পী প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দোসরদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই নিষিদ্ধ সংগঠনটি এখনও রাস্তায় নামার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।’ 

দেশের যেসব স্থানে ছাত্রলীগ মিছিল করার চেষ্টা করছে, সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় এনে অপসারণের দাবি জানান তিনি।

এছাড়া, ভারতের সীমান্ত পরিস্থিতি ও অবৈধ ‘পুশইন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী তোহা বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে পুশইন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’

একইসঙ্গে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বিজিবিকে কেবল প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালনের স্বাধীনতা দিতে হবে। প্রয়োজনে সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত গুলির কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

×