মেধা বিকাশে প্রয়োজন সাংস্কৃতিক চর্চা
সমকাল সুহৃদ সমাবেশ মিরপুরের আয়োজনে বিজয় দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অতিথিরা
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ | ২৩:০৬
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সমকাল সুহৃদ সমাবেশের মিরপুর ইউনিটের আয়োজনে ২০ ডিসেম্বর রাজধানীর গ্রিনফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা। ঢাকার ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত…
nপ্রত্যয় নিশান
শিশুর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রয়োজন সাংস্কৃতিক বিকাশও। গুটিকয়েক পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে শিক্ষণ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে শিশুর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। কোমলমতি শিশুকে চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি রাখলেও পূর্ণাঙ্গ বিকাশ মন্থর হয়ে যায়। আজকের শিশুকে আগামীর সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে তাদের সহশিক্ষা কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সুহৃদরা সিদ্ধান্ত নেন একটি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের। এ লক্ষ্যে কয়েকদিন আগে একটি সভা করেন সুহৃদরা। সভার পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজয়ের মাসে ‘বিজয় শিশু কানন-২৪’ শীর্ষক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। এ যাত্রায় ব্যক্তিগত সহযোগিতার পাশাপাশি হাত বাড়িয়ে দেয় ‘প্রোগ্রেসিভ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’। সকালের আলো ফুটতে না ফুটতেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্বেচ্ছাসেবকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে গ্রিনফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের মিলনায়তন। চারটি বিভাগে প্রতিযোগিতা হবে। সেই অপেক্ষায় সবাই। আগেই ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণা ও নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করেন স্বেচ্ছাসেবকরা। এরই ধারাবাহিকতায় শুরুতে ক্বেরাত, আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান ও চিত্রাঙ্কন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিরতির পর আবার মুখরিত হয় মিলনায়তন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রিনফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. রেহানা পারভীন, বিএন কলেজের প্রভাষক মোস্তফা আলী, শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের প্রভাষক মো. শাহীন প্রমুখ।
বিরতির পর আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণের পালা। ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে এক ব্যক্তির অবদানকে বড় করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভুল ইতিহাস শেখানো হয়েছে। জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বিজয় সঠিক ইতিহাস শেখানোর সুযোগ এনে দিয়েছে। এই চেতনায় নতুন প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের সামনে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে হবে। মেধা বিকাশে প্রয়োজন সাংস্কৃতিক চর্চা’ আলোচনা পর্বে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান। তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের যুদ্ধ, জনযুদ্ধ। সবার সম্মিলিত প্রয়াসে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছে। এর পেছনে যার যা অবদান, সেটিকে স্বীকার করা উচিত। বর্তমানের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক আছে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখন তারাই ইতিহাসকে দলীয়করণ করেছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে বঙ্গবন্ধুকে বড় করতে গিয়ে তাজউদ্দীন আহমদ, জিয়াউর রহমান, সিরাজুল আলম খানসহ অন্যদের অবদানকে খাটো করা হয়েছে। এখন সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে ‘ভারতের বিজয়’ আখ্যা দিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আবু সাঈদ খান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের পাশে ছিল, সহযোগিতা করেছে। সে জন্য আমরা ভারতের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। কিন্তু সম্ভ্রম, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের ওপর আঘাত এলে আমাদের বিদ্রোহ করার অধিকার রয়েছে।’
প্রধান আলোচক সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধি মামুন হাসান বলেন, ‘১৯৭১ সালে যার যতটুকু অবদান, সেটিকে স্বীকৃতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরব।’
সভাপতির বক্তব্যে সুহৃদ মিরপুরের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক কাজী আনিসুর রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
মিরপুর সুহৃদ সভাপতি তানভীর রহমান জয়ের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন– ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের জনতার কাউন্সিলর আহসান উল্লাহ্ চৌধুরী হাসান, মেজর (অব.) রেজাউল করিম, কামরুজ্জামান জুয়েল, উপদেষ্টা মশিউর রহমান, সুহৃদ বিভাগীয় সম্পাদক আসাদুজ্জামান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ফাহাদ আনোয়ার, জায়েদ গাজীসহ কেন্দ্রীয় সুহৃদরা উপস্থিত ছিলেন। চারটি বিষয়ের প্রতিযোগিতায় মিরপুরের ২৫টি স্কুলের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী আয়োজন।
সুহৃদ ঢাক
- বিষয় :
- মেধাক্রম