ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাক্ষাৎকারে সুজন

বিশ্বকাপ খেলা উচিত আমাদের

বিশ্বকাপ খেলা উচিত আমাদের
×

খালেদ মাহমুদ সুজন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:১৩

বিশ্বকাপে না খেললে দেশের ক্রিকেটের বড় ক্ষতি হতে পারে বলে শঙ্কা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনের। তিনি মনে করেন, ক্রিকেট কূটনীতি চালিয়ে বিশ্বকাপ খেলা উচিত। শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ হলে সংকট থেকে মুক্তি মিলবে বলে জানান তিনি। তবে কোনো কারণে বিশ্বকাপ বয়কট করলে প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে সমকালকে এক সাক্ষাৎকারে জানান খালেদ মাহমুদ সুজন

সমকাল: বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
সুজন:
আমি মনে করি বিশ্বকাপ খেলা উচিত। না খেললে এখন হয়তো ক্ষতি হবে না, ভবিষ্যতে কী ক্ষতি হবে– তা এ মুহূর্তে বলতে পারব না। আসলে এতগুলো ছেলের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নের দিকটি সাধারণ মানুষ বুঝবে না। একজন খেলোয়াড়রাই বোঝে বিশ্বকাপ খেলা কতটা আকাঙ্ক্ষিত। এমনও তো হতে পারে কোনো ছেলের এটা প্রথম বিশ্বকাপ। এর পরও সবাই বলছে দেশ বড়, আমিও বলব দেশ সবার আগে। তবে আলোচনার কোনো জায়গা থাকলে, সেটা করা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে করি। কারণ আমাদের তো ক্রিকেটটাও খেলতে হবে।
 
সমকাল: বিশ্বকাপে না গেলে বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকি আছে?
সুজন:
আইসিসি ইভেন্ট না খেললে একটু তো বিরাগভাজন হবেই। আমরা তো ক্রিকেটের পরাশক্তি না। অনেকে অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ দেয়, অস্ট্রেলিয়া তো বড় শক্তির দল। ওদের তো টাকাপয়সার সমস্যা নেই। কাঠামোগত সমস্যা নেই। তাই একজন সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে আমি বিশ্বকাপ খেলতে চাই। তবে দেশের আত্মসম্মানে আঘাত এলে সরকার যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিষয়টি এখন সরকারের ব্যাপার হয়ে গেছে। বিসিবি সরকারের সিদ্ধান্তের জন্যই অপেক্ষা করছে। আমি মনে করি আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করে দিলে সমস্যার ভালো সমাধান হয়। এতে সাপও মরল, লাঠিও ভাঙল না। 

সমকাল: বিসিসিআই কি এই বিরোধিতার প্রতিশোধ নিতে পারে?
সুজন:
আমি যেটা জানি আইসিসি ক্রিকেটকে টু টায়ার করতে চেয়েছিল। বাংলাদেশকে দ্বিতীয় টায়ারে রাখতে চেয়েছিল তারা। গত বোর্ডের ক্রিকেট কূটনীতির কারণে তা হয়নি। সেটা হয়ে গেলে তখন আফগানিস্তান আর জিম্বাবুয়ের সঙ্গে খেলে আর্থিকভাবে কতটা ক্ষতির মুখে পড়তে হবে, সেটা ভেবে দেখেন। অনেকে বলছেন, আমরা আইসিসি থেকে কত টাকা পাই বা আইসিসি টাকা কমাবে না। আইসিসির অর্থ কমে গেলে ক্রিকেটের ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রম চালাতে পারব কিনা, সেই চিন্তা করলে ভালো। সরকার তো ক্রিকেটকে আর্থিক অনুদান দেয় না। আইসিসি টাকা না দিলে সরকার থেকে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সমস্যা হবে না। আমাদের কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন হবে না। কারণ ক্রিকেটের উন্নয়নে অনেক টাকা লাগে। ১০০ কোটি টাকার বেশি বাজেট থাকে। সেই টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকলে তো ভালোই। এখন ভয়টা হচ্ছে আমরা কোনো দিন না কেনিয়া হয়ে যাই।
 
সমকাল: বিসিবি প্রায় দেড়শ কোটি টাকার বার্ষিক বাজেট করে। এই পরিমাণ টাকা ৫০টি ক্রীড়া ফেডারেশনকে দেয় না সরকার। সেখানে আদৌ কি বিসিবি সরকার থেকে টাকা পাবে? 
সুজন:
সেটাই। এটা তো দেশের খেলার ওপর নির্ভর করে। ক্রিকেট তো প্রতিষ্ঠিত একটি খেলা। আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলি, সবকিছু করি। সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। সত্যি বলতে বিশ্বকাপটা স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টাকার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছেলেদের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন। 

সমকাল: এই বিষয়ে কথা বলে একজন পরিচালকের আক্রমণের শিকার হলেন তামিম। তাহলে কথা বলা কি ঝুঁকিপূর্ণ?
সুজন:
এটা এমন একটা বিষয় হয়ে গেছে মন্তব্য করাটাও ঝুঁকিপূর্ণ। মানুষের যে রকম সেন্টিমেন্ট তারা বুঝবে না একজন খেলোয়াড়ের সাধনা। বিশ্বকাপ অনেক বড় মঞ্চ। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে খেলতে না পারা ব্যর্থতা। এর পরও দেশের মঙ্গলের জন্য যেটা ভালো হয় সেটাই করতে হবে। দেশ সবার আগে। বিশ্বের কাছে ক্রিকেট আমাদের অনেক পরিচিতি দিয়েছে এটা ভুলে গেলে হবে না। আমরা যখন প্রথম দিকে খেলেছি, তখন কেউ বাংলাদেশকে সেভাবে চিনত না। বলত ভারতের পাশের একটা দেশ। এখন সবাই চিনে। আমি বলছি না, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলবে না বলে আইসিসি কঠোর হয়ে যাবে। আমরা নিরাপত্তা বোধ না করায় খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটাও ভালো। এই ইস্যু নিয়ে কোনো রকমের প্রতিহিংসার শিকার না হলে, একটা বিশ্বকাপ না খেললে কিছু হবে না।

আরও পড়ুন

×