বাটলারের সিদ্ধান্তে দলে অস্বস্তি
ছবি- বাফুফে
সাখাওয়াত হোসেন জয়, নাগোয়া, জাপান থেকে
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৫
ওসাকা শহরের নাগাই পার্কের ভেতরে চোখ ধাঁধানো স্টেডিয়াম। ছবির ক্যানভাসে স্টেডিয়াম নাগাইয়ের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ইতিহাস আর ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই ভেন্যুতে মঞ্চায়িত হয়েছে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের করুণ দৃশ্য। যেমনটা আগে ঘটেনি, সেই লজ্জার রেকর্ড এখন সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে ঘটেছে। এশিয়ান গেমস নারী ফুটবলে উত্তর কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে পরীক্ষা চালাতে গিয়ে পিটার বাটলার নিজের একগুয়ে চরিত্রের পূর্ণপ্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার সিনিয়রকে শুরুর একাদশে না নামিয়ে ব্রিটিশ এ কোচ সিনিয়রদের প্রতি অবিচার করেছেন। বাটলারের কাছে অভিজ্ঞ নারী ফুটবলাররা চক্ষুশূলের মতো। উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোলের পরাজয়ের পর আবার প্রশ্ন উঠেছে বাটলারের কোচিং দর্শন নিয়ে। দলের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিভাজন সৃষ্টি করেছেন তিনি। যেমনটি করেছিলেন ২০২৪ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। দলের সূত্রে এমনটাই জানা গেছে। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামীকাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। এই ম্যাচেও তেমন কোনো প্রত্যাশা নেই। জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বরের মিয়ানমারের বিপক্ষে ম্যাচই তাঁর ধ্যানজ্ঞান।
জাতীয় দল তো দূরের কথা বয়সভিত্তিক বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা নেই আইরিন খাতুনের। অথচ এই ডিফেন্ডারকে উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে অভিষেক করান বাটলার। তাঁর দল নির্বাচন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। বাটলারের একগুঁয়ে সিদ্ধান্তের কারণেই এই ভরাডুবি হয়েছে বলে গতকাল সমকালকে বলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কোচ, ‘আপনি বাঘের মুখে বিড়ালকে ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা সবাই জানি, উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে। সেখানে কোচ সিনিয়রদের বসিয়ে রেখে জুনিয়রদের নামিয়েছেন। ঋতুপর্ণা চাকমার মতো ফুটবলের পোস্টার গার্লকে কীভাবে সেরা একাদশে রাখেননি কোচ, এটা আমার মাথায় ধরছে না। পরীক্ষা করবেন; কিন্তু সেটা তো কোনো প্রতিযোগিতার আগে বা প্রীতি ফুটবল ম্যাচে। এশিয়ান গেমস তো আর প্রস্তুতি বা দল গোছানোর প্রতিযোগিতা নয়।’
বাটলারের কাছে বরাবরই অপছন্দ সিনিয়ররা। প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাবিনা খাতুন-মাসুরা পারভীনের মতো তারকারা এখন ব্রাত্য। সেটার পুনরাবৃত্তি এবার এশিয়ান গেমস ফুটবলেও করেছেন বাটলার। এক নারী ফুটবলার বলেন, ‘সিনিয়রদের বসিয়ে তিনি জুনিয়রদের খেলাতে চান। তিনি জুনিয়রদের দিয়েই দল গোছাতে চান।’
ওসাকায় বাজেভাবে হারের প্রভাবটা মঙ্গলবারও ছিল। বাফুফের পাঠানো ভিডিও বার্তায় অধিনায়ক মারিয়া মান্দার কথায়ও স্পষ্ট দল হিসেবে তারা কতটা খারাপ সময় পার করছেন, ‘যেহেতু ওরা অনেক ভালো দল, আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করেছি। যেভাবে পেরেছি, সেভাবেই আমরা ট্রাই করেছি। বড় দলের সঙ্গে আমরা অনেক কিছুই শিখেছি। আমাদের আরও অনেক সামনে এগোতে হবে। ভালো দলের সঙ্গে ফাইট করতে আমাদের আরও প্রস্তুতি নিতে হবে।’ এটা অন্তত নিশ্চিত যে মারিয়ার বলা কথাগুলো টিম ম্যানেজমেন্টের শেখানো বুলি।
ম্যাচের পর কোচ বাটলারও উত্তর কোরিয়ার শক্তির কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, ‘সত্যি বলতে, ওই দলের মানের বিপক্ষে খেলার মতো যথেষ্ট দক্ষতা বা সক্ষমতা এই পর্যায়ে আমাদের এখনও নেই।’ একই সঙ্গে ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ, ‘মাঠের ভেতরের পারফরম্যান্সের দায়ভার আমি পুরোপুরি নিচ্ছি; মাঠের বাইরেরগুলো নয়। সভাপতি সব সময়ই পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু অন্যরা তা করেননি। যেমন– মাঝরাতে খেলোয়াড়দের ফোন করা বা কনফারেন্স কল করা, এভাবে তো আর একটা দল গড়ে তোলা যায় না।’
বাফুফের একজন শীর্ষ কর্তাকে ইঙ্গিত করে বাটলার এ কথা বলেছেন। এই শীর্ষ কর্মকর্তা সবসময়ই ম্যাচের আগের দিন মেয়েদের সঙ্গে অনুপ্রেরণাদায়ক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এটা নতুন কিছু নয়। পরাজয়ের দায় এড়াতে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর অভ্যাসটা ব্রিটিশ এ কোচের রয়েছে। উত্তর কোরিয়া বিপর্যয়ের পর প্রশ্ন উঠেছে আড়াই বছর ধরে মেয়েদের ফুটবলের দায়িত্বে থাকা বাটলারের আচরণ নিয়ে।
- বিষয় :
- পিটার বাটলার
- এশিয়ান গেমস
- নারী ফুটবল দল