ডেঙ্গু থেকে সেরে উঠেছেন
খাবার যেমন হওয়া উচিত
নাহিদা আহমেদ
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
ডেঙ্গু জ্বর থেকে সেরে ওঠার পর শারীরিক শক্তি ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে এবং দ্রুত স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে বিশ্রাম ও সঠিক খাদ্যব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। এই সময়ে রোগীর ডায়েটে কোন খাবারগুলো রাখা উচিত এবং কোনগুলো বর্জন করা প্রয়োজন, তা নিচে তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরা হলো:
প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও সহজপাচ্য খাবার
প্রোটিন রক্ত গঠন এবং কোষের সুস্থতার জন্য একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। মুরগির স্যুপ, ডিম, পাতলা দুধ বা ছানা, দই ও মাছ ইত্যাদি খাবার থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন পাওয়া যায়।
জাউ বা স্যুপ জাতীয় তরল খাবার হজম করা অত্যন্ত সহজ। এগুলো রোগীকে অতিরিক্ত খাওয়ানোর পরেও ভারী বা বমি বমি ভাব তৈরি করে না।
মুরগির সঙ্গে সবজির পাতলা স্যুপ খেলে তরলের চাহিদা মেটার পাশাপাশি প্রোটিন ও ভিটামিন পাওয়া যায় এবং দুর্বলতা কমে যায়।
ফলমূল ও তরল জাতীয় খাবার
চিনি ছাড়া তাজা ফলের রস, ডাবের পানি, আখের গুড়ের শরবত, ফ্রেশ ফল এবং ফলের স্মুদি থেকে প্রচুর শক্তি পাওয়া যায়।
ফল থেকে পটাশিয়াম, খাদ্য আঁশ, ভিটামিন সি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন মেলে। ডেঙ্গু জ্বর চলাকালীন ও পরে বেদানা খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। পাশাপাশি মাল্টা, কমলা, পাকা পেঁপে ও কলা নিয়মিত খেতে হবে। রঙিন ফল ত্বক ও চুল পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।
ডাবের পানি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ ও লবণের দারুণ উৎস। ফলের রস শরীরের স্বাভাবিক ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা বজায় রাখতে, উচ্চ জ্বরের কারণে ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করতে এবং দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে।
সাইট্রাস বা টক জাতীয় ফল এবং কমলালেবু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ভিটামিন সি এবং অন্ত্রবান্ধব ফাইবারে পূর্ণ, যা হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
শাকসবজি ও পুষ্টি উপাদান
ব্রকলি, পালংশাক, পেঁপে ছাড়াও গাঢ় সবুজ রঙের সবজিতে ভিটামিন কে, ই ও এ ভরপুর থাকে, যা ডেঙ্গু-পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত উপকারী।
এসব শাকসবজি স্যুপ করে, জুস করে কিংবা মাছ দিয়ে পাতলা ঝোল করে খাওয়া যেতে পারে।
যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে
প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং ভাজা খাবার বর্জন করতে হবে।
অতিরিক্ত মসলাদার ও চটকদার খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
চা-কফির মতো ক্যাফেইন জাতীয় খাবার এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে।
[লেখক: পুষ্টিবিদ]
- বিষয় :
- ডেঙ্গু