কর্দমাক্ত সড়কে ৫ গ্রামের কষ্ট
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়ন- সংলগ্ন বেহাল বিহারীপুর সড়কের একাংশ। শনিবার তোলা। ছবি: সমকাল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৭
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বিহারীপুর গ্রামের পাশ দিয়ে চলে গেছে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। যে সড়কের ওপর নির্ভর করে ইউনিয়নের অন্তত ৫টি গ্রামের মানুষ। তবে বেহাল এই সড়কের কারণে দীর্ঘকাল ধরে ভোগান্তিতে থাকলেও স্থানীয়রা কোনো সমাধান পাচ্ছে না।
দুই কিলোমিটার দীর্ঘ বেহাল এই সড়ক নিয়মিত ব্যবহার করে বিহারীপুরসহ ৫টি গ্রামের অন্তত তিন হাজার বাসিন্দা। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সড়কে আজো লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। যে কারণে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়া আসা করা– এমন প্রতিটি ক্ষেত্রে সৃষ্টি হচ্ছে ভোগান্তি। শুষ্ক দিনে সড়কটিতে কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও বৃষ্টির সময় হেঁটে চলাও কঠিন। খানাখন্দে ভরা কাঁচা সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতে কাদায় ভরে যায়। যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার পাশাপাশি হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে সমস্যায় পড়তে হয় চাষিদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়– ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বিহারীপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সড়কটি দিয়ে চলাচল করে খোজারগাঁও, নিজগাঁও, শাহপুর, ভাদেশ্বরসহ অন্তত পাঁচ গ্রামের তিন হাজার মানুষ। এ ছাড়াও একই সড়ক ব্যবহার করে মিরপুরসহ উপজেলা সদরে যাতায়ত করে থাকেন গ্রামের মানুষজনসহ স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে গুরুতর অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের সড়কটি দিয়ে আনা-নেওয়া করতে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি পোহাতে হয় দুর্ভোগ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে– সড়কের বহু অংশে জমে আছে বৃষ্টির পানি। আবার কোথাও কোথাও সৃষ্টি হওয়া গর্তে পানি জমে পরিণত হয়েছে কাদায়। যে কারণে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দিয়ে হেটে চলাসহ যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়– দিনের পর দিন বছরের পর যায় জনপ্রতিনিধি আসে যায় কিন্তু সড়কটি ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। সড়কটি দিয়ে এলাকার মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের স্কুল কলেজে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তারা বলেন– বিশেষ করে বৃষ্টির সময় সড়কটি দিয়ে চলাচল করাই কষ্টকর।
টিপু মিয়া নামে এক তরুণ জানান, চার দিকে এত উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু বিহারীপুর সড়কের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না কেন তা তাদের জানা নেই। কতটা কষ্ট করে সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে হয় স্থানীয়দের তা বলে বোঝানো কঠিন। এলাকাবাসী চায় সড়কটিতে যেন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে এবং কষ্ট দূর হয়। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, গত ৫ বছর ধরে সড়কটি এই অবস্থায় রয়েছে। শুভ মিয়া এক ব্যক্তি জানান, এলাকার রোগীদের জেলা সদর নিয়ে যেতে হলে সড়কটি দিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে যায়। বিশেষ করে রাতের বেলায় তো কাদামাখা সড়ক দিয়ে চলাচলই করা যায় না।
বিহারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেনা আক্তার বলেন, সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেক সময় কাদায় পিছলে পড়ে পোশাক নষ্ট হয়। ক্ষুদে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর স্বার্থে দ্রুত সড়কটি নির্মাণ করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শ্রী কুমার কৈরি বলেন, সড়কটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, বিহারীপুর সড়কের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- বিষয় :
- হবিগঞ্জ