বিদেশে সম্রাটের সম্পদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে

হাসপাতালে ভর্তি থাকায় রিমান্ড শুনানি পেছাল

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিদেশে কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তার খোঁজখবর নিচ্ছেন গোয়েন্দারা। এ ছাড়া তার দুই সহযোগী যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা এনামুল হক আরমান ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিদেশে কোনো সম্পদ আছে কি-না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন সম্রাটের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। তবে আরও ২৪ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখা হয়েছে তাকে। হাসপাতালে ভর্তি থাকায় মাদক ও অস্ত্র আইনের মামলায় তার রিমান্ড শুনানি পেছানো হয়েছে। কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টার ভবন ছিল সম্রাটের প্রধান আস্তানা। প্রথমে সেখানে তার একটিমাত্র কক্ষ থাকলেও পরে পুরো ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। ক্যাসিনো ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন খাত থেকে মাসে কোটি কোটি টাকা আসত সম্রাটের কাছে। এসব টাকার বেশিরভাগই বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তার সহযোগী আরমান ও খালেদও অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে। তারাও বিদেশে টাকা পাঠিয়েছেন কি-না, সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অবশ্য সম্রাট গ্রেফতারের পর তার দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সম্রাট ক্যাসিনো থেকে যা আয় করত, তা কর্মী ও জুয়ার পেছনে খরচ করেছে। বিদেশেও সে যায় ক্যাসিনো খেলতে। সম্পদ গড়ার নেশা তার নেই।

চলমান ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে প্রথমে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি কে শামীমকে গ্রেফতারের পরই সম্রাটের নাম আলোচনায় আসে। তিনিও গ্রেফতার হতে পারেন- এমন গুঞ্জন শুরু হয় ওই দু'জন গ্রেফতারের পরপরই। খালেদ যেদিন গ্রেফতার হয়, সেদিন রাতে সহস্রাধিক নেতাকর্মী নিয়ে কাকরাইলে নিজ অফিসে অবস্থান করেন সম্রাট। সেখান থেকে আত্মগোপনে চলে যান। গত রোববার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় সম্রাট ও তার অন্যতম সহযোগী এনামুল হক আরমানকে। গ্রেফতারের পর যুবলীগ থেকে বহিস্কার করা হয় তাদের। অবৈধভাবে ক্যাঙারুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য সম্রাটকে ছয় মাস ও মাদক সেবন করার অপরাধে আরমানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই দিনই তাদের কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। বুকে ব্যথা দাবি করায় গত মঙ্গলবার সম্রাটকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ওই দিন তাকে ২৪ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখা হয়। গতকাল বুধবার তাকে আরও ২৪ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে হাসপাতাল থেকে।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার সকাল ৭টায় আবারও সম্রাটের এক্স-রেসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সব রিপোর্টই ভালো এসেছে। হৃদরোগ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মহসিন আহমেদ গতকাল বলেন, অনিয়ন্ত্রিত হার্টবিটের কারণে সম্রাটকে আরও ২৪ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখা হচ্ছে। তার শরীরের বর্তমান অবস্থা ভালো। তাকে বিদেশে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি ভালো আছেন।

সম্রাটের রিমান্ড শুনানি পিছিয়েছে :মাদক ও অস্ত্র আইনের মামলায় সম্রাটের রিমান্ড শুনানি পিছিয়েছে। পুলিশের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল এ দুই মামলার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য ছিল। এদিন সম্রাট অসুস্থতার কারণে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। আদালতে এ-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী আগামী ১৫ অক্টোবর আসামির উপস্থিতিতে গ্রেফতার ও রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন। সম্রাটের সহযোগী বহিস্কৃত ঢাকা মহানগর যুবলীগের নেতা এনামুল হক আরমানকেও মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ ১০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য ওই দিন ধার্য করা হয়েছে।