আন্দোলনের পেছনে সাড়ে চার বছরের ক্ষোভ
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীরা
পুলিশ ঘিরে রেখেছে চারপাশ। এর মধ্যেই চাদর বিছিয়ে আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীরা, চলছে লেখাপড়াও। বুধবার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে - সমকাল
দায়িত্ব পালনকালে সাড়ে চার বছর ধরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ যে স্বেচ্ছাচারিতা, একগুঁয়েমি ও বেপরোয়া আচরণ করেছেন; তা-ই শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে অনিবার্য করে তুলেছে। এ রকমই বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা বলছেন, সর্বশেষ বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের অভ্যন্তরীণ সমস্যায় নজিরবিহীনভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অ্যাকশনের ফলে এতদিনের জমাট ক্ষোভ বিস্ম্ফোরিত হয়ে এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে উপাচার্যের একটি অডিও ক্লিপ, যাতে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে 'অশালীন মন্তব্য' করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসার সুবাদে উপাচার্যের এক ধরনের অহমিকাও রয়েছে।
ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতাও ফেসবুকে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল থেকে নির্বাচন করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন ছাত্রলীগের একাধিক নেতা। অবশ্য বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি আওয়ামী লীগপন্থি নীল দল থেকে দু'দফা ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ২০১২-১৩ সালে বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে ফরিদ উদ্দিনের নাম আসার বিষয়টি নতুন করে উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নতুন নিয়োগে আঞ্চলিকতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে কয়েক দফা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সংযোগ কেটে দিয়েছেন বা রিসিভ করেননি।
শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের অনেকে প্রকাশ্যে উপাচার্যের সমালোচনা করছেন। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আবু সাঈদ আকন্দ ফেসবুকে তাকে নিয়ে বেশ কয়েকটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাজেদুল ইসলাম সবুজ, শাবির সৈয়দ জুয়েম, মাহবুবুর রহমানসহ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অনেক সাবেক নেতাকর্মীই উপাচার্যের কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
২০১৭ সালের আগস্টে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যে ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন, তাতে এমন সংহত ও শক্তিশালী আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও অপ্রত্যাশিত ছিল। অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে যুক্ত ছিলেন, এমন এক শিক্ষক বলেন, ফরিদ উদ্দিন এখানে এসে নিজের চারপাশে অন্যরকম একটি বলয় গড়ে তোলেন। এখানকার শিক্ষকদেরও তিনি এক ধরনের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতির সঙ্গে 'আলাদা সম্পর্কের' কথাও প্রচার করেন তিনি। এসব আন্দোলনে তার কিছু হবে না- এমন প্রচারও রয়েছে তার পক্ষাবলম্বনকারীদের।
গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমদ লিজার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। গত রোববার পুলিশি অ্যাকশনের পর তা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। গতকাল বুধবার দুপুরের পর তার পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হক ও সমাজকর্ম বিভাগের দীপান্বিতা বৃষ্টি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলমান আন্দোলনের প্রথমদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগও উঠেছিল। তবে এ আন্দোলনে ছাত্রলীগের কর্মীদের অনেকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক জানিয়েছেন, ফরিদ উদ্দিন কুমিল্লা জেলার শিক্ষকদের বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন। গতকাল স্থগিত হওয়া সিন্ডিকেট নির্বাচনেও তিনি পছন্দের বলয়ের শিক্ষকদের বিজয়ী করতে তৎপর ছিলেন।
গতকাল সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্লোগানে শিক্ষকদের সম্পর্কে 'অশালীন ও অসম্মান'-এর অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষকের অবস্থান কর্মসূচির নেপথ্যেও উপাচার্যের ইন্ধনের অভিযোগ রয়েছে। এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মন্তব্যের সমালোচনায় অধ্যাপক ড. লায়লা আশরাফুনের বক্তব্য নিয়েও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এদিকে বর্তমান সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে উপাচার্যের একটি অডিও ক্লিপ, যাতে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে 'অশালীন মন্তব্য' করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসার সুবাদে উপাচার্যের এক ধরনের অহমিকাও রয়েছে।
ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতাও ফেসবুকে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল থেকে নির্বাচন করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন ছাত্রলীগের একাধিক নেতা। অবশ্য বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি আওয়ামী লীগপন্থি নীল দল থেকে দু'দফা ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ২০১২-১৩ সালে বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে ফরিদ উদ্দিনের নাম আসার বিষয়টি নতুন করে উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নতুন নিয়োগে আঞ্চলিকতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে কয়েক দফা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সংযোগ কেটে দিয়েছেন বা রিসিভ করেননি।
শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের অনেকে প্রকাশ্যে উপাচার্যের সমালোচনা করছেন। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আবু সাঈদ আকন্দ ফেসবুকে তাকে নিয়ে বেশ কয়েকটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাজেদুল ইসলাম সবুজ, শাবির সৈয়দ জুয়েম, মাহবুবুর রহমানসহ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অনেক সাবেক নেতাকর্মীই উপাচার্যের কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
২০১৭ সালের আগস্টে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যে ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন, তাতে এমন সংহত ও শক্তিশালী আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও অপ্রত্যাশিত ছিল। অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে যুক্ত ছিলেন, এমন এক শিক্ষক বলেন, ফরিদ উদ্দিন এখানে এসে নিজের চারপাশে অন্যরকম একটি বলয় গড়ে তোলেন। এখানকার শিক্ষকদেরও তিনি এক ধরনের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতির সঙ্গে 'আলাদা সম্পর্কের' কথাও প্রচার করেন তিনি। এসব আন্দোলনে তার কিছু হবে না- এমন প্রচারও রয়েছে তার পক্ষাবলম্বনকারীদের।
গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমদ লিজার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। গত রোববার পুলিশি অ্যাকশনের পর তা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। গতকাল বুধবার দুপুরের পর তার পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হক ও সমাজকর্ম বিভাগের দীপান্বিতা বৃষ্টি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলমান আন্দোলনের প্রথমদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগও উঠেছিল। তবে এ আন্দোলনে ছাত্রলীগের কর্মীদের অনেকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক জানিয়েছেন, ফরিদ উদ্দিন কুমিল্লা জেলার শিক্ষকদের বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন। গতকাল স্থগিত হওয়া সিন্ডিকেট নির্বাচনেও তিনি পছন্দের বলয়ের শিক্ষকদের বিজয়ী করতে তৎপর ছিলেন।
গতকাল সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্লোগানে শিক্ষকদের সম্পর্কে 'অশালীন ও অসম্মান'-এর অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষকের অবস্থান কর্মসূচির নেপথ্যেও উপাচার্যের ইন্ধনের অভিযোগ রয়েছে। এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মন্তব্যের সমালোচনায় অধ্যাপক ড. লায়লা আশরাফুনের বক্তব্য নিয়েও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এদিকে বর্তমান সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস।
