স্বর্ণ চোরাকারবারিরা জাতির শত্রু
অবৈধ স্বর্ণের চালান বাংলাদেশ হইয়া প্রতিবেশী ভারতে পাচার হইবার যেই প্রক্রিয়া শুক্রবার সমকালের এক প্রতিবেদনে তুলিয়া ধরা হইয়াছে, উহা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ হইতে উড়োজাহাজে চাপিয়া বাহক অবৈধ উপায়ে স্বর্ণের বার লইয়া বাংলাদেশে ঢোকে। ইহার পর উগ্রপন্থিদের অনুসৃত ‘কাটআউট’ পদ্ধতিতে চার হইতে পাঁচবার হাতবদলের মাধ্যমে ভারতে চলিয়া যায়। বিষয়টি উদ্বেগজনক। কারণ ইহা প্রমাণ করে– স্বর্ণ চোরাকারবারিরা বাংলাদেশকে নিরাপদ পথ ভাবিতেছে, যাহা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। দ্বিতীয়ত, স্বর্ণ চোরাচালানের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ঘটে অবৈধ লেনদেন তথা হুন্ডির মাধ্যমে, যথায় বৈদেশিক মুদ্রা বিশেষত ডলারের ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী। এই স্বর্ণের উৎস হইল মধ্যপ্রাচ্য, যথা হইতে বাংলাদেশ সর্বাধিক রেমিট্যান্স আয় করিয়া থাকে। উপরন্তু স্বর্ণ চোরাচালান এমন সময় বৃদ্ধি পাইয়াছে যখন দেশে প্রবল ডলার সংকট চলমান। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) হিসাবমতে, দেশে প্রতিদিন অন্তত ২০০ কোটি টাকার স্বর্ণালংকার ও বার চোরাচালানের মাধ্যমে প্রবেশ করিতেছে। সেই হিসাবে এক বৎসরে টাকার অংকে স্বর্ণ চোরাচালানের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭৩ হাজার কোটি।
আমরা মনে করি, স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধ করিতে হইলে প্রথমত চোরাকারবারিদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকিলে উহা বন্ধ করা দরকার। স্বর্ণ আমদানি নীতিমালার দুর্বলতা দূর করিবার পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলিতে গোয়েন্দা নজরদারি কঠোর করিতে হইবে। সীমান্ত এলাকায়ও নজরদারি জোরদার করিবার বিকল্প নাই।
