ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

'এখন আমার ঝিরে কি দিয়া বুঝামু'

'এখন আমার ঝিরে কি দিয়া বুঝামু'
×

জাজিরায় দুর্ঘটনায় নিহত চালক রবিউলের শাশুড়ির আহাজারি। ছবি: সমকাল

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৭:৫৩ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৭:৫৩

শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুলেন্সটি চালাচ্ছিলেন চালক রবিউল ইসলাম (২৮)। তার বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে বলছে, তিনি টানা ২৬ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। রোগী নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে  চলন্ত ট্রাককে ধাক্কা দিলে তিনিসহ ছয়জন মারা যান।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে রবিউলের স্বজনেরা জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। হাসপাতাল চত্বরে আহাজারি করতে করতে রবিউলের শাশুড়ি রানি বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে সন্তানসম্ভবা। পাঁচ বছর বয়সী একটা ছেলে আছে। আমি এখন ওদের দায়িত্ব কার কাছে দেব?’

তিনি আহাজারি করে বলেন, 'এইটুকু পোলা থুইয়া লইয়া গেলোরে, আমার যদি অর্থ থাকতোরে কইতাম মাগো তোমাগো বুকে পাজাইয়া রাখমু। আপনাদের সবার দোয়া চাই আল্লাহ যেনো ওদের বাঁচাইয়া রাখে। আমি কি পাপ করছিগো আল্লাহ-আমার ধন সম্পদ নিয়া গেলা। এখন আমার ঝিরে কি দিয়া বুঝামুরে আল্লাহ।'

অ্যাম্বুলেন্সের চালক রবিউলের ভাই ইয়াছিন হাওলাদার বলেন, তারা দুই ভাই অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে সংসার চালান। রবিউল রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঢাকা থেকে রোগী নিয়ে ভোলায় যান। ভোলা থেকে ফেরার পথে তিনি বরিশাল শহর থেকে গতকাল আরেক রোগীকে নিয়ে ঢাকায় যান। ফেরার পথে পদ্মা সেতু এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন।

হাইওয়ে পুলিশের ফরিদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মারুফ হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জনের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সচালক রবিউলের মরদেহ তার স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের স্বজনেরা এলে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

আরও পড়ুন

×