ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

পুনর্বাসন প্রচেষ্টা বিফলে, ফুটপাত হকারদের দখলে

পুনর্বাসন প্রচেষ্টা বিফলে, ফুটপাত হকারদের দখলে

সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ফুটপাত দখল করে রেখেছে হকাররা - সমকাল

ফয়সল আহমদ বাবলু, সিলেট

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

সিলেট নগরীর সবচেয়ে বড় সমস্যা হকার। হকাররা যাতে ফুটপাতে না বসে, সে জন্য নগর কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য ছেড়ে দিয়েছিল বিশাল মাঠ। তারাও ছুটে গিয়েছিল সেখানে। জমে উঠেছিল লালদীঘিরপাড় তৃতীয় নতুন হকার্স মার্কেট। এতে বদলে যায় সিলেট নগরীর চিত্র। অবশ্য এই চিত্র বেশি দিন দেখা মেলেনি। মাস যেতে না যেতেই আবার ফুটপাত দখল করে নিয়েছে হকাররা। এতে নগরীর ফুটপাত ফিরেছে পুরোনো চেহারায়।

গত দুই দশক ধরে রাস্তার দুই পাশের ফুটপাত দখল করে হকাররা হরেক রকমের পসরা বসিয়ে ব্যবসা করছেন। এ কারণে নগরীর কোর্টপয়েন্ট, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, বন্দরবাজার, মেডিকেল রোড, ধোপাদীঘিরপাড়, সুরমা মার্কেট পয়েন্ট, জিন্দাবাজারসহ কয়েকটি এলাকায় যানজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে । এক সময় হকাররা রেজিস্ট্রার মাঠও দখলে নিয়েছিলেন। বছর সাতেক আগে সিলেটের দলিল লেখকরা প্রতিবাদী হয়ে ওঠায় রেজিস্ট্রার মাঠ ছাড়েন হকাররা। এর পর তারা এসে অবস্থান নেন ফুটপাত ও রাস্তায়। কাপড়ের দোকান থেকে শুরু করে মাছবাজারও গড়ে তোলা হয় রাস্তায়। এতে করে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন মার্কেট ব্যবসায়ীরা।

এক সময় সিলেটের আদালত পাড়া, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, সিলেট স্টেশন ক্লাব, জেলা পরিষদের সামনের পুরোটাই ছিল হকারদের দখলে। দ্বিতীয়বারের মতো আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র নির্বাচিত হয়ে হকার সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করেন। হকার অধ্যুষিত এলাকার ফুটপাতকে নতুন আঙ্গিকে নির্মাণ করেন মেয়র। কোর্ট পয়েন্ট থেকে জিন্দাবাজার হয়ে চৌহাট্টা পর্যন্ত রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেন। প্রতিটি ফুটপাতে লেখা হয় ‘মানুষের চলাচলের জন্য, হকারদের বসা নিষেধ।’ হকার পুনর্বাসনে নগরীর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হলে মেয়র হকারদের জন্য নগরীর লালদীঘিরপাড় ময়দান বরাদ্দ করেন।

প্রাথমিকভাবে লালদীঘিরপাড় মাঠে ১ হাজার ৭০ জন হকারকে পুনর্বাসন করা হয়। প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে হকারদের নাম তালিকাভুক্ত করে বাঁশ দিয়ে দোকান বানিয়ে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে জমে ওঠে লালদীঘি মাঠ। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে সন্ধ্যার বাজার হিসাবে পরিচিতি পেতে শুরু করে। এভাবেই চলে বেশ কিছু দিন। পরে ধীরে ধীরে আবারও নগরীর রাস্তার দখল নিতে শুরু করেন হকাররা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, লালদীঘিরপাড় মাঠে হকারদের হাতেগোনা কয়েকটি দোকান আছে। অনেক হকার আগের মতোই রাস্তায় তাদের পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করছেন। তাদের রাস্তা থেকে সরাতে সিসিক-হকার ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলছে।

প্রবীণ হকার নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, হকার্স শেডে ফুটপাত থেকে নিরাপদে ও সুন্দরভাবে ব্যবসা করা যায়। কিছু হকার তা মানতে চায় না। তারা বলে, ফুটপাত থেকে সরে গেলে ব্যবসা হবে না, ক্রেতা ঢুকবে না।

আরেক হকার নেতা আনোয়ার মিয়া জানান, ওই মাঠে লোকজন যায় না। দোকানও বাঁশ আর পলিথিন দিয়ে মোড়ানো। সেখানে বসলে হকারদের অনেক লোকসান হয়। এ কারণে হকারদের সেখানে ধরে রাখা যায়নি।

সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন জানান, মহানগরীর রাস্তার দুই পাশ এখন হকারদের দখলে থাকে। ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসা করায় যানজট সৃষ্টি ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

জানতে চাইলে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, যখনই অভিযান চালিয়েছি, তখনই পুনর্বাসনের দাবি উঠেছে। হকাররা যাতে যেখানে সেখানে বসে ব্যবসা না করে, সে জন্য লালদীঘি মাঠে ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তার পরও তারা ফুটপাতে বসে। আমি অভিযান অব্যাহত রেখেছি। যতদিন দায়িত্বে আছি, ততদিন নগরী সুন্দর পরিপাটি করে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাব।

আরও পড়ুন

×