ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

পুকুর নিলাম নিয়ে ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষ

পুকুর নিলাম নিয়ে ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষ

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৬:২৬ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৬:২৬

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে সরকারি দুটি পুকুর নিলাম নিয়ে দফায় দফায় ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য ও এক ছাত্রলীগ কর্মী। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার বেলা ১টার দিকে উপজেলা চত্বরে এ সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আহতরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ওমর ফারুক, কনস্টেবল রবিউল ইসলাম ও ছাত্রলীগ কর্মী আল মামুন।

আটকরা হলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেকের অনুসারী মাহাবুবুর রহমান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব মাঈদুল ইসলাম।

জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের অধীনে হেলিপ্যাড ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের পাশের পুকুর দুটি প্রকাশ্যে নিলাম দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেক গ্রুপ সমন্বয় করার প্রস্তাব দেন। এতে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি জুয়েল রানা গ্রুপ রাজি হয়নি। একপর্যায়ে তাদের মাঝে বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো ও রাজীবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে উপজেলা চেয়ারম্যানের অফিসকক্ষে ঢুকে তারেক গ্রুপ রাগান্বিতভাবে বলেন, তারা ছাড়া অন্য কেউ এই নিলামে অংশ নিতে পারবে না। এ কথা বলার পর অফিস থেকে নিচে নেমে আসেন তারা। কিছুক্ষণ পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম মিশু ঘটনাস্থলে এসে জুয়েল গ্রুপের ওপর হামলার হুকুম দেন তারেক গ্রুপকে। তখন তাদের মাঝে শুরু হয় মারামারি। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয় এবং প্লাস্টিকের টুল দিয়ে শরীরে আঘাত করে। এতে আহত হন এএসআই ওমর ফারুক ও কনস্টেবল রবিউল ইসলাম এবং জুয়েল গ্রুপের আল মামুন। পরে আহত দুই পুলিশ সদস্য রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন এবং চিকিৎসা নিয়ে চলে আসেন।

আওয়ামী লীগ নেতা মোজাহিদুল ইসলাম মিশু বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি উপজেলা চত্বরে ফুচকার দোকানে ছিলাম। কিন্তু আমি হুকুম দিইনি।’

রাজীবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেক বিষয়টি সমন্বয় (নেকো) করার প্রস্তাব দেন। এতে আমরা রাজি না হওয়ায় আমার সহযোগীকে গলা ধরে ধাক্কা দেয় এবং আমাদের মারধর করে তারেক গ্রুপ।’

তবে মেহেদী হাসান তারেক বলেন, ‘একটু কথাকাটাকাটি ও কিল-ঘুসির ঘটনা ঘটেছে।’ পুলিশকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।’

উপজেলা চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো জানান, পুকুর নিলামে অংশ নিয়ে দুই গ্রুপের মাঝে কিল-ঘুসির ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওখানে পুলিশও ছিল।

রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমেদের ভাষ্য, নিলামকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের হট্টগোল হয়েছে। নিলাম স্থগিত করা হয়েছে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি কাজে যারা ব্যাঘাত ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজীবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম বলেন, পুকুর নিলামকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তাদের আঘাত করা হয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই কথা বলেন সহকারী পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×