ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩

কক্সবাজারে দুদকের গণশুনানি

২৯ সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১১০ অভিযোগ

২৯ সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১১০ অভিযোগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৩ | ১৫:১৬ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৩ | ১৫:১৬

কক্সবাজারে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা নিয়ে অভিযোগ করেন মহেশখালীর রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জমির সঠিক মালিকানা থাকায় তিনি ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পাওয়ার জন্য ২০২০ সালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখায় আবেদন করেন। এর পর বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় এক কানুনগোকে। পরে এলএ শাখা থেকে রফিকুল ইসলামের নামে নোটিশও জারি করা হয়। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় গিয়ে দেখেন, টাকাগুলো অন্য কেউ তুলে নিয়ে গেছে।

শুধু রফিকুলই নন, দুদকের গণশুনানিতে এভাবে নানা অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সেবামূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তারা হয়রানি, দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কক্সবাজার পাবলিক হলের শহীদ সুভাষ অডিটোরিয়ামে চলে দুদকের এই গণশুনানি। সেখানে ২৯টি সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে ১১০টি অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিছু অভিযোগ সুনির্দিষ্ট, আবার কিছু ছিল ঢালাওভাবে। এসব অভিযোগের মধ্যে শুনানি হয়েছে ৮০টির। এক অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে দুদকের কাগজ জালিয়াতির অভিযোগে মামলার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ শাখার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে দুদকে প্রতিবেদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়। এগুলো প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে দুদকে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে– কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখা, জেলা সদর হাসপাতাল, জেলা পাসপোর্ট কার্যালয়, পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়, উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়, বিআরটিএ, সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়, বন বিভাগ, শিক্ষা অফিস, পুলিশ বিভাগ, সমাজসেবা অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, এনসিসি ব্যাংক, পর্যটন করপোরেশন। এ ছাড়া জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে।। তবে সবচেয়ে বেশি ২৩টি অভিযোগ ওঠে কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখার বিরুদ্ধে।

গণশুনানিতে দুদক কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে কোনো প্রতিরোধে দুদক আইনের কাছে দায়বদ্ধ। দুর্নীতি করে কেউ পার পাবেন না। গণশুনানিতে ওঠা অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করে দেখা হবে। গুরুতর অভিযাগ আমলে নিয়ে দুদকের আইন ও নিয়ম অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুদক ভালোর সঙ্গে থাকবে, খারাপের সঙ্গে থাকবে না।

জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরানের সভাপতিত্বে গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন, দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মাহমুদ হাসান, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম, দুদকের কক্সবাজারের উপপরিচালক মুনিরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন