ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

নলকূপ অকেজো, সুপেয় পানির জন্য হাহাকার

নলকূপ অকেজো, সুপেয় পানির জন্য হাহাকার

নলছিটির কলেজ চত্বরে অকেজো একটি টিউবওয়েল সমকাল

নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪ | ২৩:২৭

নলছিটি উপজেলায় ভূগর্ভের পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। অধিকাংশ নলকূপে উঠছে না পানি। ফলে সুপেয় ও গৃহস্থালি কাজে পানির সংকটে এলাকার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রচণ্ড তাপদাহ, বৃষ্টি না হওয়া, পুকুর-জলাশয় ভরাট ও অপরিকল্পিত সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপন ভূগর্ভের পানির স্তরকে ক্রমে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
নান্দিকাঠি এলাকার গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, টিউবওয়েলে পানি না ওঠায় আমরা পুকুর ও খালের পানি রান্না-খাওয়ার জন্য ব্যবহার করি। এতে শিশুরা ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
দুই লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৫০ শতাংশ মানুষ সরকারি চার হাজার ও ব্যক্তি উদ্যোগে বসানো ছয় হাজার গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করেন। বাকিরা বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে পৌরসভার সাপ্লাই, নদী, খাল ও পুকুরের ওপর নির্ভরশীল। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় হাজার চাপেও বর্তমানে নলকূপগুলোতে প্রয়োজনীয় পানি উঠছে না। অকেজো পড়ে আছে হাজারেরও বেশি নলকূপ। গ্রাহকের নিয়মিত পানির চাহিদা মেটাতে পৌরসভার দুটি পানি সাপ্লাই ইউনিট থাকলেও সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন না।
গ্রাহকদের অভিযোগ, সুগন্ধা নদীর পানি নিয়ে নান্দিকাঠি এলাকার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের শোধনাগারে পরিষ্কার করে সরবরাহ করার কথা। কিন্তু সরবরাহ করা পানিতে কাঁদা-ময়লা পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাপ্লাই পানির সংযোগ নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন পৌরবাসী। 

পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, এক কলস পানি তুলতে আধাঘণ্টা সময় লাগছে। নলকূপের ওপর দিয়ে পানি ঢেলে কিংবা বারবার মেরামত করেও কাজ হচ্ছে না। টিউবওয়েলগুলোতে পানি তুলতে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হচ্ছে।যাদের সামর্থ্য আছে তারা সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে পানি তুলছেন। বাকিরা অন্যের বাড়ি, পুকুর-জলাশয় থেকে পানি নিচ্ছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগে ৭০০ থেকে ৮০০ ফুট গভীরে পানি মিলত। এখন হাজার ফুটেও মিলছে না। তাই ১২০ থেকে ১৪০ ফুট গভীরে তিন-চার ইঞ্চি মোটা পাইপের সঙ্গে সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে পানি তুলতে হচ্ছে। 
জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার এরশাদুজ্জামান মৃদুল জানান, ভূগর্ভের পানির চাপ কমাতে উপজেলার নাচনমহল ও মোল্লারহার ইউনিয়নের ১ হাজার ২৫৭টি পরিবারকে উপকূলীয় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া ১০টি ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ হাটবাজারে তিন হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ১৮টি কমিউনিটি টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ চলছে।
 

আরও পড়ুন

×