ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ছেলেকে ফিরে পেয়ে নাজমুলের মা

‘আল্লাহ আমার বুকের ধন ফিরিয়ে দিয়েছেন, আর কিছু চাওয়ার নেই’

‘আল্লাহ আমার বুকের ধন ফিরিয়ে দিয়েছেন, আর কিছু চাওয়ার নেই’

মায়ের সঙ্গে নাজমুল - সমকাল

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪ | ১০:২১

সোমালিয়ার জলদস্যুদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অবশেষে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন এমভি আবদুল্লাহর নাবিক নাজমুল হক হানিফ। বুধবার ভোরে নাজমুল সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার প্রত্যন্ত চর-নুরনগরে নিজ বাড়িতে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘদিন পর নাজমুলকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সবাই যেন ‘ঈদের চাঁদ’ হাতে পেয়েছেন। আনন্দের জোয়ার বইছে তার পরিবারে।

দুই মাসের বেশি সময় পর সন্তানকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নাজমুলের মা নার্গিস বেগম। আদর-সোহাগ করে বরণ করে নেন তার প্রিয় সন্তানকে।

নার্গিস খাতুন বলেন, আল্লাহ আমার বুকের ধনকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমার আর কোনো কিছু চাওয়ার নেই। আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে যেসব মানুষ সাহায্য করেছেন, সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহর কাছেও আমি কৃতজ্ঞ।

গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে এমভি আবদুল্লাহ এবং জাহাজের ২৩ নাবিককে জিম্মি করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। নাজমুল ওই ২৩ নাবিকের একজন।

নাজমুলের বাবা আবু সামা শেখও ছেলেকে ফিরে পেয়ে অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। এমন মুহূর্তে নাজমুলও নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। কিছু সময় পর পর চোখের পানি ফেলেছেন, আবার মুছেছেন।

মা-বাবাকে জড়িয়ে ধরে নাজমুল বলেন, এই আনন্দ প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। বাড়িতে ফিরতে পেরেছি, পরিবারকে কাছে পেয়েছি। অনেক ভালো লাগছে। বেশ কিছুদিন বাড়িতে থাকব। কোরবানির ঈদের পর আবার জাহাজে ফিরব।

এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নাজমুল বাড়িতে ফিরলে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং গ্রামবাসী তাকে বরণ করে নেয়।

জিম্মিদশার অভিজ্ঞতা জানিয়ে নাজমুল বলেন, সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার পর তারা যখন আমাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিল, আটকে রাখল, তখন ভেবেছিলাম আমাদের সবাইকে হয়তো মেরে ফেলবে। আর কোনোদিন হয়তো পরিবারের সাথে দেখা হবে না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করতাম। আল্লাহ আমাদের কথা শুনেছেন। আল্লাহ তাআলার কাছে আমরা অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সাথে বাংলাদেশ সরকার ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ ২৩ নাবিকসহ জাহাজটি জিম্মি করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। ৩২ দিন জিম্মি থাকার পর মুক্তিপণ নিয়ে ১৪ এপ্রিল জাহাজটি ছেড়ে দেয় তারা। এরপর আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে পণ্য খালাস করে জাহাজটি। এরপর অন্য বন্দর থেকে নতুন পণ্য বোঝাই করে। সেখান থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর গত শনিবার জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে।

আরও পড়ুন

×