ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেরপুরের ছানার পায়েস পেল জিআই স্বীকৃতি

শেরপুরের ছানার পায়েস পেল জিআই স্বীকৃতি
×

ছানার পায়েস

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪ | ২২:২৭

শেরপুরের জমিদারি আমলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ছানার পায়েস পেল জিআই বা ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি। ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে শেরপুরের মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন সরকারের ভৌগোলিক নির্দেশক ইউনিটে আবেদন করে। এরই প্রেক্ষিতে শেরপুরের নামে ২৯ ও ৩০ শ্রেণিতে জিআই-৫৬ নম্বরে ‘ছানার পায়েস’ চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি নিবন্ধিত হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্যাটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেড মার্কস (ডিপিডিটি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুনিম হাসানের সই করা এক পত্রে গতকাল বৃহস্পতিার এসব তথ্য জানা গেছে। জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শেরপুরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ ছানার পায়েস জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় শহরজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। জেলা ব্র্যান্ডিং ওয়েবসাইট ‘আওয়ার শেরপুর’ সুখবর পৌঁছে দিতে মানুষের মাঝে ছানার পায়েস বিতরণ করে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেনের ভাষ্য, সরকারের এ সিদ্ধান্ত শেরপুরকে  বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জমিদারি আমলে শেরপুরের নয়আনী, তিনআনী, পৌনে তিনআনী, সাতআনী ও আড়াই আনী জমিদার বাড়িতে ছানার পায়েস তৈরি হতো। বিভিন্ন উৎসবে ও মেহমানদের এ পায়েস দিয়ে আপ্যায়ন করার রীতি প্রচলিত ছিল। শেরপুর শহরের রঘুনাথ বাজারের বিখ্যাত অনুরাধা মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারীর পূর্বপুরুষ চন্দ্র কিশোর দে, তাঁর ছেলে গিরিশ চন্দ্র দে, তাঁর ছেলে সুরেশ চন্দ্র অসাধারণ এ ছানার পায়েস তৈরি করতেন। বংশপরম্পরায় তারা জমিদার বাড়িতে গিয়ে গাভীর দুধ দিয়ে অসাধারণ সুস্বাদু এ মিষ্টি তৈরি করে দিয়ে আসতেন।

জানা যায়, জমিদারদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও ছানার পায়েস খাওয়ানোর প্রচলন ছিল। জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর শেরপুরে বাণিজ্যিকভাবে ছানার পায়েস বিক্রি শুরু হয়। শহরের রঘুনাথ বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী ক্ষিতিশ চন্দ্র দে, অনুরাধার মালিক সুরেশ চন্দ্র দে, গোয়ালপট্টির প্রেমানন্দ ঘোষ, কানাইলাল ঘোষ প্রমুখ ছানার পায়েস বানানো শুরু করেন। বর্তমানে জেলায় ২০-২৫টি দোকানে এ পণ্য তৈরি হয়।

অনুরাধা মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী বাপ্পি দে সমকালকে বলেন, ছানার পায়েস তৈরিতে খুব ভালো গাভীর দুধের প্রয়োজন হয়। হিমায়িত দুধ হলে চলবে না। প্রথমে দুধ খুব ভালো করে জাল দিয়ে ঘন করতে হয়। তাঁর ভাষ্য, সাধারণত ৪০-৪৫ কেজি দুধকে শুকিয়ে ১০ থেকে সাড়ে ১০ কেজি করে নেন তারা। সেই ক্ষিরে এক থেকে সোয়া কেজি ছানার গুটি দেওয়া হয়। এ ছাড়া আরও কিছু উপাদান মিশিয়ে তৈরি হয় ছানার পায়েস। তারা ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে ছানার পায়েস বিক্রি করেন।

শেরপুরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. সুধাময় দাস বলেন, জমিদারি আমল এবং তাঁর আগেও শেরপুরের ছানার পায়েস ও মুক্তাগাছার মন্ডা বিশ্বখ্যাত ছিল। বিয়ে, উৎসব, ঈদ, পূজা-পার্বনে অতিথিদের ছানার পায়েস দিয়ে আপ্যায়িত করা হতো। এখনও সেই রীতি চলমান রয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম হিরো, গণমাধ্যমকর্মী হাকিম বাবুল, আইনজীবী রফিকুল ইসলাম আধার, মিষ্টি ব্যবসায়ী অরুন ঘোষ বলেন, ছানার পায়েস জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় তারা ভীষণ খুশি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শেরপুরের ঐতিহ্যকে জানাতে পারবে। 

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ভীষণ খুশির খবরটি আজই আমরা পেয়েছি। ছানার পায়েস জিআই পণ্য হয়েছে– এমন সনদ হাতে পেয়েছি। শেরপুরের ছানার পায়েস এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও আমরা লাভবান হব।


 

আরও পড়ুন

×