ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘আমার শরীরে ৭০–৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে’- গাজী সালাউদ্দিনের অভিযোগ

‘আমার শরীরে ৭০–৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে’- গাজী সালাউদ্দিনের অভিযোগ
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৭

কারাগারে বন্দি অবস্থায় নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির সাবেক নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর। তিনি দাবি করেছেন, কারাগারে তাকে ৭০–৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়। কারাবন্দি অবস্থায় তিনি জ্বর আক্রান্ত থাকতেন। তখন তাকে ইনজেকশন দেওয়া হতো।

শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। তাকে হাসপাতালের ট্রলিতে করে সংবাদ সম্মেলনে আনা হয়। তার হাতে স্যালাইন লাগানো ছিল। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে গত ৩১ জুলাই ফেসবুকে অরুচিকর মন্তব্য করেন তানভীর। পরে তিনি পোস্ট ডিলিট করে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। তবে তাকে অব্যাহতি দেয় এনসিপি। ৫ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় বগুড়া পুলিশ গ্রেপ্তার করে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। মুক্ত হওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেছেন জেলে ও রিমান্ডে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই ছাপার কাজে কমিশন–বাণিজ্যে জড়ানোর অভিযোগ উঠলে সমালোচনার মুখে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তানভীরকে যুগ্ম সদস্যসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল এনসিপি। অভিযোগের সত্যতা না মেলায় গত মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁকে অব্যাহতি দেয়। এরপর এনসিপি দলে ফিরে নেয় তানভীরকে।

ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলনে গাজী সালাউদ্দিন তানভীর বলেন, ‘৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলে এবং রিমান্ডে আমাকে চরম নির্যাতন করা হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে নির্যাতনের কথা বাইরে বললে আমার পরিবারের সদস্যদের গুম করে ফেলা হবে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারের মধ্যে খুনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলের কালো ছায়া আগের মতোই হুবহু রয়ে গেছে, জেলে গিয়ে তার প্রমাণ আমি পেয়েছি।’

তানভীরের বলেন, ‘আমার শরীরে অসংখ্য ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। এসব কীসের ইনজেকশন, তা আমি জানি না। অন্তত ৭০–৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে আমাকে। সারাক্ষণ জ্বর থাকত আর তারা আমাকে ইনজেকশন দিত।’

বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এইচ এস মাফুতুন আহমেদ খানের মামলায় গ্রেপ্তারের পর বগুড়ায় কারাগারের এমন সেলে নেওয়া হয়, যা অপরিচ্ছন্ন, বিদ্যুৎহীন ছিল বলে অভিযোগ করেন তানভীর।

তিনি বলেন, কারারক্ষীদের বেশির ভাগই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের এবং তারা তাঁকে জুলাই জঙ্গি বলে গালিগালাজ করত। আশপাশের কয়েদিরাও আওয়ামী লীগের আসামি। তারাও যা–তা গালাগালি করত।

কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় জানিয়ে সালাহউদ্দিন অভিযোগ করেন, সেখানে চিকিৎসাকরা যেসব ওষুধ লিখেছেন, তা দেওয়া হয়নি। অসংখ্য ইনজেকশন দেওয়া হয়। বগুড়ার হাসপাতালে নষ্ট এমআরআই মেশিনে ঢুকানোর পর অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন থেকে কোমর থেকে পা পর্যন্ত প্যারালাইজড হয়ে গেছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতালে) আনা হলেও সুচিকিৎসা হয়নি বলে অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন তানভীর। তিনি বলেন, বসুন্ধরার গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালাকের সমালোচনার কারণে এখানে তাঁকে নির্যাতন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবু সাঈদ লিয়ন, সদস্য ইয়াসির আরাফাত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×