অনাবাদি থাকার শঙ্কায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমি
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পাড়াশিমূল ও রায়পুর গ্রামের কাউয়াদিঘি হাওর এলাকায় আমন চাষ উপযোগী জমি পানিতে নিমজ্জিত সমকাল
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
মৌলভীবাজারের মনু সেচ প্রকল্পের কাশিমপুর পাম্প হাউসের পাম্পগুলো সার্বক্ষণিক চালু না থাকায় তৈরি হয়েছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। এতে কাউয়াদিঘি হাওরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে অন্তত সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, আগে থেকে আবাদ করা পাকা আউশ ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
গতকাল শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার রায়পুর ও পাড়াশিমূলসহ হাওরের জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই কাউয়াদিঘি হাওর। এর জলাবদ্ধতা নিরসনে ও কৃষি রক্ষায় ১৯৭৬ সালে কুয়েত সরকারের যৌথ অর্থায়নে মনু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, এর কাজ শেষ হয় ১৯৮০ সালে। হাওরের উদ্বৃত্ত পানি কুশিয়ারা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য রাজনগরের কাশিমপুরে ৮টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প সংবলিত পাম্প হাউস স্থাপন করা হয়।
হাওর রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব খছরু চৌধুরী অভিযোগ করেন, ১৯৮০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত হাওরের পানির লেভেল নির্ধারণী স্কেলটি হাওয়া বিলে অবস্থিত ছিল। ২০০৪ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অসাধু কিছু কর্মকর্তা ইজারাদারদের স্বার্থ রক্ষায় সেই মিটারস্কেলটি সরিয়ে পাম্প হাউসের কাছের একটি গভীর ক্যানেলে স্থাপন করেন। ফলে বর্ষা ও শীত উভয় মৌসুমেই পানি ধরে রেখে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি করা হচ্ছে, এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের।
হাওড় পারের কৃষক কামাল হোসেন ও ফজলুর রহমান জানান, গত বোরো মৌসুমে এক-তৃতীয়াংশ ফসলও তারা ঘরে তুলতে পারেননি। বর্তমানে আউশ ধান কোমরসমান পানিতে ডুবে আছে। পাম্পগুলো সঠিকভাবে না চলায় পানি কমছে না, ফলে আমনের বীজতলার চারার বয়স পেরিয়ে গেলেও রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পানি দুই থেকে আড়াই ফুট কমাতে পারলে এই সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার টন ধান উৎপাদন সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালীদ জানান, বর্তমানে হাওরে পানির উচ্চতা ৮.৬০ মিটারে রয়েছে, যা সাড়ে আট মিটার থাকার কথা ছিল। তবে মিটারস্কেল সরানোর বিষয়ে তাঁর জানা নেই। পাম্প হাউসের বর্তমান সক্ষমতায় দুই ফুট পানি কমাতে বৃষ্টিহীন অবস্থায়ও অন্তত ৪০ দিন সময় লাগবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, সরেজমিন আউশ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে। দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পানি নিষ্কাশন ও আমন চাষ উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কৃত্রিম এই জলাবদ্ধতা নিরসন ও পাম্প হাউস সচলের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন কৃষকেরা।
- বিষয় :
- জমি উদ্ধার