সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশায় বাড়ল ডলারের সর্বোচ্চ দর
ছবি: রয়টার্স
রয়টার্স
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:১৩
সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বুধবার মার্কিন ডলারের দর দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত, তেলের দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দর পরিমাপকারী সূচক ০.১৬ শতাংশ বেড়ে ১০০.৭১-এ দাঁড়িয়েছে। ইউরোর মান কমে জুলাইয়ের শেষভাগের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সর্বশেষ ইউরোর দর ছিল ১.১৪২৮২ ডলার। স্টার্লিংয়ের বিনিময়মূল্য ছিল ১.৩৩১৬ ডলার।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বৃদ্ধি ও কঠোর মুদ্রানীতি মুদ্রাবাজারের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মুদ্রাস্ফীতি কমে না এলে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে।
ইনটাচ ক্যাপিটাল মার্কেটসের এশিয়া অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগের প্রধান কিয়েরান উইলিয়ামস বলেন, সুদের হার বৃদ্ধির ফলে ডলার যে সহায়তা পাচ্ছে, তা দীর্ঘস্থায়ী মনে হচ্ছে। তবে ফিউচারস মার্কেটে ফেডারেল রিজার্ভের নিজস্ব পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টি আগে থেকেই ধরে নেওয়া হয়েছে। এখন এই প্রত্যাশার সত্যতা নিশ্চিত করতে ডলারের পক্ষে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক তথ্য প্রয়োজন।
এদিকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারে—এমন সম্ভাবনার খবরে তেলের দাম কমেছে। উইলিয়ামস বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার খবরের পর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় তেলের বাজার থেকে ডলারের সমর্থন কিছুটা দুর্বল হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সাত মাসের যুদ্ধের সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে—এমন আশাবাদের মধ্যেও তেলের বাজারে নজর রয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৮.৪৬ ডলারে নেমে এসেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমে আসা এবং সংঘাতের সমাধানের বিষয়ে আশাবাদ বাড়ায় টানা ছয়টি সেশনে এর দাম কমেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ অবসানের কোনো চুক্তি না হলে তিনি ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। তবে জাতিসংঘে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে তিনি শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এমইউএফজির মুদ্রা বিশ্লেষক মাইকেল ওয়ান বলেন, তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কিছুটা কমে আসা ইতিবাচক। তবে সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে অস্পষ্টতার কারণে সামনে কী ঘটবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
বিনিয়োগকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকেও তাকিয়ে আছেন। বিভিন্ন ইস্যুতে চাপের মধ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে দুই নেতা কী পদক্ষেপ নেন, তা নিয়েও বাজারে আগ্রহ রয়েছে।
এদিকে জাপানি ইয়েনের দর প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৫৭.৫৮-এ অবস্থান করছে। গত সপ্তাহে ব্যাংক অব জাপান সুদের হার ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করলেও বাজার ওই সিদ্ধান্তকে খুব বেশি কঠোর বা ‘হকিশ’ হিসেবে দেখেনি। ফলে মুদ্রাবাজারে সরকারি হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা সতর্ক রয়েছেন।
দুটি ভিন্নমত এবং সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকায় ব্যাংক অব জাপান কত দ্রুত নীতি কঠোর করবে, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভ গত সপ্তাহে সুদের হার বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়ায় দুই দেশের সুদের হারের ব্যবধান এখনো বড় রয়েছে।
ছুটির কারণে জাপানের বাজার বন্ধ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কম লেনদেনের এই সময়টি প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের জন্য বাজারে হস্তক্ষেপের উপযুক্ত মুহূর্ত হতে পারে।
ইনটাচের উইলিয়ামস বলেন, ব্যাংক অব জাপানের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বন্ডের ইল্ড বা আয়ের হারের ব্যবধান কমাতে পারেনি। কারণ, এর দুদিন আগেই ফেডারেল রিজার্ভ একই পরিমাণে সুদের হার বাড়িয়েছিল। ফলে দুই দেশের সুদের হারের ব্যবধান এখনো বেশিই রয়েছে।
প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৬০ ইয়েনের স্তরটি এখনো ঝুঁকির কারণ হিসেবে রয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বাজারে হস্তক্ষেপের আগাম ইঙ্গিত দেওয়া বা কোনো নির্দিষ্ট বিনিময় হারকে লক্ষ্য করার নীতি থেকে সরে এসেছেন বলে খবর রয়েছে। ফলে ইয়েনের দর নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা আরও আগে এবং ভিন্ন কোনো পদ্ধতিতে হতে পারে।
- বিষয় :
- ডলারের দর
- ইরান
- যুক্তরাষ্ট্র
- ইসরায়েল
- সংঘাত