ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইফোন কিনতে সন্তানকে বিক্রি বাবা আটক

আইফোন কিনতে সন্তানকে বিক্রি বাবা আটক
×

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর দশমিনায় আইফোন কেনার জন্য নিজের এক বছরের সন্তানকে বিক্রির অভিযোগে মো. মারুফ মুন্সি নামের যুবককে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর শিশুপুত্রকে। গত রোববার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে চর আগস্তি গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে।

মারুফের বাড়ি দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামে। তিনি ঢাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। উদ্ধার হওয়া শিশুকে গতকাল সোমবার সকালে তার দাদা মফিজ মুন্সি ও দাদি মাহফুজা বেগমের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সেই সঙ্গে শিশুটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা।
এদিকে মারুফের কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকায় কেনা একটি পুরোনো আইফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে আইফোন কেনার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মারুফের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর কলহ চলছিল। কিছুদিন আগে তারা আলাদা বসবাস শুরু করেন। এরপর শিশুটিকে তার দাদি মাহফুজা বেগম দেখাশোনা করছিলেন। মাহফুজা বেগমের দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকা থেকে ফিরে গত শনিবার সকালে ছেলেকে ভালো জামাকাপড় পরিয়ে ঘুরতে নিয়ে যান মারুফ। সারা দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন। পরে তারা জানতে পারেন, মারুফের সহকর্মী ইমরান হোসেনের শ্বশুর টাকার বিনিময়ে তাঁর নাতিকে নিয়েছেন। পরিবারের দাবি, শিশুটির দাম এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫২ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে লিখিতভাবে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমার থেকে বিভিন্ন সময় মারুফ এক লাখ টাকা নিয়েছেন। পরে তাঁর শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে আমার কাছে চুক্তিপত্র করে দিয়ে দেন। আমার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে। তাই তিনি শিশুটিকে দত্তক নিয়েছিলেন।’

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম এ বিষয়ে সমকালকে বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে দেখে ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর হই। রোববার রাতে গ্রামের বাড়ি থেকে মারুফকে আটক করা হয়।’ এরপর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শিশুটিকে ইমরানের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, শিশুটিকে গতকাল সোমবার সকালে তার দাদা-দাদির কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার সুরক্ষার জন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 
 

আরও পড়ুন

×