ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেরি সংকটে তিন বছরেই অচল নৌপথ, যোগাযোগে অনিশ্চয়তা

ফেরি সংকটে তিন বছরেই অচল নৌপথ, যোগাযোগে অনিশ্চয়তা
×

 চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

তিনটি ফেরি নিয়ে বর্ণাঢ্য যাত্রার তিন বছর পার না হতেই পুরোপুরি ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথ। একের পর এক ফেরি তুলে নেওয়ার পর এতদিন এই রুটের শেষ ভরসা ছিল ‘কদম’। এবার মেরামতের অজুহাত দেখিয়ে সেটিও নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে গতকাল বুধবার থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটিতে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, যা সমগ্র উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।

বুধবার সকাল সাড় ৭টার দিকে চিলমারী নদীবন্দর ঘাট থেকে ‘কদম’ ফেরিটি নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিলমারী বন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা মাহবুব আলম তায়েফ। এর আগে গত ১৪ জুলাই একই কথা বলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল অপর ফেরি ‘কুঞ্জলতা’। ফলে এত দিন ধরে একা ‘কদম’ সার্ভিস দিয়ে এলেও সেটি সরিয়ে নেওয়ায় থমকে গেছে পুরো নৌপথ।
নৌপরিবহন সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘কুঞ্জলতা’ দিয়ে চিলমারী নদীবন্দরে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন হয়। পরে ওই বছরের ৪ অক্টোবর যুক্ত হয় ‘বেগম সুফিয়া কামাল’। মাত্র ২৫ দিনের মাথায় ধারণক্ষমতার দোহাই দিয়ে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’কে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ওই বছরের নভেম্বরে যুক্ত করা হয় ‘কদম’। তবে সময়ের ব্যবধানে একে একে সব ফেরি প্রত্যাহার ও ডকইয়ার্ডে পাঠানোর কারণে মাত্র তিন বছরে পুরো নৌপথটি ফেরিশূন্য হয়ে পড়ল।

ফেরি চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার পণ্যবাহী গাড়ি চালকেরা। ট্রাকচালক আশরাফুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ফেরি বন্ধ থাকলে বিকল্প দীর্ঘ পথে যেতে বাড়তি জ্বালানি ও সময় অপচয় হয়, এতে পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া স্থানীয় অধিবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নিয়মিত নাব্য সংকটের কারণে এমনিতেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল, তার ওপর একের পর এক ফেরি প্রত্যাহার এই অঞ্চলের পরিবহনব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নৌবাণিজ্যের সম্ভাবনাময় এই রুটে বারবার ফেরি বন্ধের প্রক্রিয়াকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। রেল, নৌযোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান জানান, বড় বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলেও আকস্মিক ফেরি বন্ধের ফলে সরকারি বাজেটের সুফল প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে বিকল্প ফেরি চালুর পাশাপাশি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য সংকট সমাধানের দাবি জানান।
বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের সহকারী প্রকৌশলী (বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ বলেন, ফেরি ‘কদম’ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। মেরামত শেষে পুনরায় চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফিরিয়ে আনা হবে। এর জন্য অন্তত তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সম্পূর্ণ ফেরিশূন্য রাখার সময় বিকল্প কোনো ছোট ফেরি বা সাময়িক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×