ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাণিজ্য কমায় টেকনাফ স্থলবন্দরে চাঞ্চল্য নেই

বাণিজ্য কমায় টেকনাফ স্থলবন্দরে চাঞ্চল্য নেই
×

আব্দুর রহমান, টেকনাফ (কক্সবাজার) থেকে 

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

নাফ নদের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন। এক সময় নদপথে ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব বন্দর থেকে নিয়মিত পণ্য আসত টেকনাফ স্থলবন্দরে। সরগরম থাকত জেটি, কর্মচঞ্চল থাকতেন শ্রমিক-ব্যবসায়ীরা। এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য। চার মাস ধরে সীমিত পরিসরে মংডুর সঙ্গে বাণিজ্য চালু হয়েছে। তবে ফিরছে না বন্দরের প্রাণচাঞ্চল্য। 
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, টেকনাফ সদরের কেরুনতলী এলাকায় স্থলবন্দরে আগের তুলনায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা অনেক কম। মংডু থেকে আসা ঘাটে মাছের একটি ছোট নৌকা নোঙর করে আছে। টেকনাফ থেকে মংডুতে রপ্তানির জন্য আলু, কেক, প্লাস্টিকের চেয়ার, ময়দা, ডিম, টাইলসসহ বিভিন্ন পণ্য ট্রাক থেকে ট্রলারে তোলা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে বন্দরে আগের সেই কর্মচাঞ্চল্য নেই।

টেকনাফ স্থলবন্দরের শ্রমিক নেতা আজগর আলী সমকালকে বলেন, আগে বন্দরে প্রায় এক হাজার শ্রমিক নিয়মিত কাজ করতেন। এখন মাত্র ১০০ থেকে ২০০ শ্রমিক কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে মূল বাণিজ্য বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের দুর্দিন যাচ্ছে। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস তথ্য মতে, চলতি বছরের মে থেকে মিয়ানমারের মংডুর সঙ্গে সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে। চার মাসে ১ হাজার ৮২৭ টন পণ্য আমদানি হয়েছে। এর বিপরীতে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বাংলাদেশ থেকে মংডুতে রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৮০৭ টন পণ্য। এসব পণ্যের দাম প্রায় ৪০ কোটি টাকা। রপ্তানি হচ্ছে আলু, ময়দা, ডিম, প্লাস্টিকের চেয়ার, টাইলস, ছাতা, স্যান্ডেল, সাইকেলের পার্টসসহ বিভিন্ন পণ্য। বিপরীতে মিয়ানমার থেকে আসছে কাঠ, আইএনসি, কাঁকড়া, নাইল্যা শুঁটকিসহ বিভিন্ন পণ্য।
স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট টেকনাফ লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ইয়াঙ্গুন-আকিয়াব থেকে পণ্য আসা-যাওয়া বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানও লোকসানে রয়েছে। বর্তমানে মংডুর সঙ্গে সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি চলছে। বলতে গেলে, বন্দরের মাত্র ১৫ শতাংশ কার্যক্রম সচল রয়েছে।’

টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা
মাহমুদুর রহমান বলেন, ইয়াঙ্গুন-আকিয়াবের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪৯ হাজার টন পণ্য আমদানি থেকে সরকার প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি নেমে আসে প্রায় ১১ হাজার টনে এবং রাজস্ব আদায় হয় প্রায় ৯১ কোটি টাকা।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব বন্দর থেকে পণ্য আসা বন্ধ রয়েছে। তবে মংডুর সঙ্গে থেমে থেমে বাণিজ্য চলছে। স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি সচল করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

আরও পড়ুন

×