চাঁদার জন্য চিকিৎসককে হুমকি, ‘১০০ পুলিশ থাকলেও গুলি করে মেরে ফেলব’
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:২০ | আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:০৮
‘টাকা না পাঠালে অনেক বড় বিপদ হয়ে যাবে। তোমার পেছনে আমাদের লোক লাগানো আছে। তোমার গাড়ির নম্বরও আছে। ১০০ জন পুলিশ থাকলেও তোমাকে গুলি করে মেরে ফেলব।’—চাঁদা দাবি করে চট্টগ্রামের এক চিকিৎসককে এভাবেই হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা।
পুলিশ বলছে, বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ ও তার সহযোগী মো. রায়হানের পরিচয়ে ওই চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ে টাকা না দেওয়ায় পরে চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ করে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। কয়েক দফায় ফোনের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত ও অডিও বার্তা পাঠিয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিরা বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে পরিচিত সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন।
হুমকির শিকার চিকিৎসক এম ওয়াই এফ পারভেজ। তিনি হাটহাজারীর চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমান বাজারের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তিনি চেম্বার করেন।
যেভাবে হুমকি
চিকিৎসক পারভেজ ৩ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, রোগীদের সিরিয়াল দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত তার মোবাইল ফোনে ২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন আসে। তার সহকারী হ্যাপি বড়ুয়া ফোনটি ধরেন। পরে ওই ব্যক্তি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ফোনটি তাকে দেওয়া হয়।
জিডি অনুযায়ী, ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে বড় সাজ্জাদ বলে পরিচয় দেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলেন তিনি। টাকা না দিলে যেকোনো সময় চেম্বারে গিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর কয়েক দফায় বড় সাজ্জাদের সহযোগী রায়হানের পরিচয় দিয়েও চিকিৎসককে হুমকি দেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্র জানায়। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় বলা হয়, টাকা না দিলে বড় বিপদ হবে। তার পেছনে লোক লাগানো হয়েছে এবং তার গাড়ির নম্বরও তাদের কাছে রয়েছে।
একপর্যায়ে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘১০০ জন পুলিশ থাকলেও তোমাকে গুলি করে মেরে ফেলব। রোগী সেজে তোমাকে মেরে ফেলা হবে, চেম্বারে গিয়ে।’
নির্ধারিত সময়ে ১০ লাখ টাকা না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পরে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। রায়হানের পরিচয়ে পাঠানো আরেকটি বার্তায় বলা হয়, ‘১০ লাখ টাকার বদলে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে।’
আটক ৭
চিকিৎসককে হুমকির ঘটনায় সোমবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন- কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) ও নুরুল আলম।
পুলিশের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, আটক ব্যক্তিরা বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে রায়হান, বড় সাজ্জাদসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীর পরিচয়ে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। চিকিৎসক পারভেজকেও তারা হুমকি দিয়েছেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, গত ২৯ জুলাই যশোর হয়ে ভারতে পালানোর সময় সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে আটক করা হয়েছিল। তিনি কারাগারে থাকলেও তার কিছু সহযোগী ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিরা সাধারণত বড় সাজ্জাদ কিংবা রায়হানের নির্দেশে চাঁদা দাবি করেন। তবে অনেক সময় বড় সাজ্জাদ বা রায়হানের পরিচয় ব্যবহার করে তাদের অগোচরেও চাঁদা দাবি করেন।