ত্বকী হত্যার ১৬২ মাস
দুর্বৃত্ত রক্ষার নীতির ধারাবাহিকতা রাখার চেষ্টা হচ্ছে
ছবি- সমকাল
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৪:৩৪
মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৬২ মাস উপলক্ষে আয়োজিত আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেছেন, বিচার ব্যবস্থায় শেখ হাসিনার শাসনামলের চেয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। শেখ হাসিনা ১৫ বছরে দেশে যে দুর্বৃত্ত রক্ষার নীতি তৈরি করে গেছেন, পরে তারই ধারাবাহিকতা রক্ষার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমরা এ রাজনীতির পরিবর্তন চাই। মানুষের পক্ষের রাজনীতি চাই।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এই আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচিতে ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, সাড়ে ১৩ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র তৈরি হয়নি। আমরা জানতে চাই, এখন এই বিলম্বের কারণ কী? এখনও ঘাতকদের রক্ষার চেষ্টা হচ্ছে কিনা? শেখ হাসিনার শাসনামলে খুন, হত্যা, চাঁদাবাজি, দখল-রাহাজানির মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। ত্বকীর ঘাতকরা চিহ্নিত হলেও তারা বীরদর্পে সারা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছে। প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে। সব কিছু জেনেও শেখ হাসিনা দুর্বৃত্তদের, ত্বকীর ঘাতকদের পক্ষ নিয়েছেন। আজকে ত্বকীর ঘাতকরা বিদেশে রাজকীয় জীবন যাপন করছে। ত্বকী হত্যার বিচারের ১০৬টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হয়েছে। দুটি সরকার পরিবর্তন হয়েছে অথচ অভিযোগপত্র এখনও তৈরি হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জে এসে ত্বকী হত্যার বিচার দাবি করেছিলেন। তাঁর সন্তান আজকের প্রধানমন্ত্রী। তবে কেন বিচারটা হবে না? বাধাটা কোথায়? সমাবেশে বক্তারা ত্বকী, সাগর-রুনি, তনু এবং নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত সব হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন।
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব সাংবাদিক হালিম আজাদ, ন্যাপ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা জিয়াউল ইসলাম কাজল, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, সিপিবির সাবেক জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজও পেশ করা হয়নি। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তার দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।
- বিষয় :
- হত্যা
- বিচারের দাবি