ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জলাশয়ের জঞ্জালে ভর করে বাড়তি আয়

জলাশয়ের জঞ্জালে ভর করে বাড়তি আয়
×

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কচুরিপানার ভাসমান বেডে সবজি চাষ। গত রোববার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের শোভান গ্রাম থেকে তোলা সমকাল

ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, চাঁদপুর

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

জলাশয়ের জঞ্জাল কচুরিপানা। নদীতে ছেয়ে থাকা কচুরিপানার কারণে নৌযান চলাচল করতে পারে না। সেই জঞ্জাল কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ করছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। কচুরিপানা দিয়ে তৈরি ভাসমান জমি স্থানীয়ভাবে ‘বেড’ নামে পরিচিত। সেই বেডে সবজি ও চারা উৎপাদন করছেন কৃষকরা।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের শোভান গ্রামে ডাকাতিয়া নদীর তীরের জলাবদ্ধ স্থানে কয়েক বছর ধরে চলছে ভাসমান কৃষিকাজ। স্থানীয়দের তৈরি ভাসমান বেডে লাউ, কুমড়া, লালশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও চারা উৎপাদন হচ্ছে। এতে কৃষকদের বাড়তি আয়ের পথ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষক শহীদ তালুকদারের উদ্যোগে এলাকায় ভাসমান বেডে সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে অন্য কৃষকরাও এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হন। শোভান গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষক এখন ভাসমান বেডে সবজি চাষ করছেন।

কৃষক শহীদ তালুকদার বলেন, চলতি বছর তিনি ৬০টি ভাসমান বেড তৈরি করেছেন। বেড তৈরিসহ অন্যান্য কাজে তাঁর প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। মৌসুম শেষে সবজি বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।
প্রায় দেড় দশক ধরেই কচুরিপানার ভাসমান বেড তৈরি করে সবজি চাষ করছেন কৃষক মিজানুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, একসময় ডাকাতিয়া নদীর কচুরিপানা তেমন কোনো কাজে লাগত না। এখন সেই কচুরিপানা সংগ্রহ করে নদীর পানির ওপর বেড তৈরি করে শাকসবজি চাষ করছেন তারা। তিনি বলেন, ‘আষাঢ় মাসের শুরু থেকে আমরা এই রকম চাষ শুরু করে থাকি। এই চাষ পদ্ধতি শুরু হয়ে একেবারে শীতের শেষ মাঘ পর্যন্ত চলে। আগে যে সবজি শীতের সময় ছাড়া মিলতো না, সেটা আমরা বর্ষায় ফলাতে পারি। আবার শীত মৌসুমেও একই বেড থেকে শাকসবজি মিলছে। এতে আমাদের বাড়তি আয় হচ্ছে। এ ছাড়া এখানে আমরা শুধু সবজিই চাষ করছি না, বিভিন্ন জাতের সবজির চারাও উৎপাদন করি।’
কৃষকদের হিসাবে, বেডের আকার ও উৎপাদিত ফসলের ধরন অনুযায়ী খরচ ও আয় ভিন্ন হয়। তবে একটি বড় ভাসমান বেড তৈরিতে কয়েক হাজার টাকা ব্যয় হলেও মৌসুম শেষে সেখান থেকে খরচের তুলনায় ভালো আয় করা সম্ভব। মৌসুম শেষে কচুরিপানার এসব বেডেরও রয়েছে ব্যবহার। পচে যাওয়া কচুরিপানা জমিতে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করেন কৃষকরা। ফলে একদিকে সবজি উৎপাদন হচ্ছে, অন্যদিকে জমির জন্য মিলছে জৈবসারের উপকরণ।
 

আরও পড়ুন

×