টেকনাফে ডাকাতি ও মানব পাচারে জড়িত দুজনের আত্মসমর্পণ
ছবি- সমকাল
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৩৩
কক্সবাজারের টেকনাফে ডাকাতি-অপহরণ ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশের দাবি, তাদের একজন পাহাড়ি এলাকায় ডাকাতি ও অপহরণে এবং অন্যজন সাগরপথে মানব পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানের সময় তারা নিজ নিজ এলাকার পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। কক্সবাজার জেলা পুলিশের ‘স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন’ উদ্যোগের আওতায় তারা আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে টেকনাফ মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কক্সবাজার জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অহিদুর রহমান।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন— টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার নূর হোসেন ওরফে নূর হাছান (২৭) এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকার মো. হোছন ড্রাইভার (৪০)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নূর হোসেন টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় ডাকাতি ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
অন্যদিকে মো. হোছন ড্রাইভারকে সাগরপথে মানব পাচারকারী একটি চক্রের অন্যতম সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মানব পাচারসহ সাতটি মামলা বিচারাধীন এবং দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। একই দিন তিনি বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাকে বিধি অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এএসপি অহিদুর রহমান বলেন, উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় ও সাগরে কোনো অপরাধী চক্রের তৎপরতা সহ্য করা হবে না। তবে অপরাধের পথ ছেড়ে কেউ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নূর হোসেন ও হোছন ড্রাইভারের আত্মসমর্পণ অন্য অপরাধীদের জন্য একটি বার্তা। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে ভালো পথে ফিরতে চাইলে তাদের বা তাদের পরিবারের সদস্যদের অহেতুক হয়রানি করা হবে না।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, যারা এখনো আত্মগোপনে থেকে পাহাড় বা সাগরে অপরাধী চক্রের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তাদের দ্রুত নিকটস্থ থানা বা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাহাড়ি অপহরণকারী চক্রের হাতে অতীতে জিম্মি হওয়া নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই এ ধরনের অপরাধের স্থায়ী অবসান হোক। আত্মসমর্পণের এই প্রক্রিয়া দেখে পাহাড়ের অন্য অপরাধীরাও অস্ত্র ছেড়ে ভালো পথে ফিরুক। তাহলে আর কোনো পরিবারকে স্বজন হারিয়ে কাঁদতে হবে না।’
- বিষয় :
- ডাকাত
- আত্মসমর্পণ
- কক্সবাজার