ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ দিন পর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা

রোকন বাহিনীর প্রধানসহ আসামি ১৭৪

সংঘর্ষের ঘটনায়  ৮ দিন পর পুলিশ  বাদী হয়ে মামলা
×

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আট দিন পর মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এ মামলায় জঙ্গল সলিমপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী রোকন বাহিনীর প্রধান মো. রোকন ও সন্ত্রাসী মোহাম্মদ আলীসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিএনপির নেতাদের দাবি, আসামিদের অধিকাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। মামলা দায়েরের আগে সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনকারীদের মধ্যে সাদেক, কামরুল হাসান, হানিফ ও রিপন নামে চারজনকে আটক করা হয়েছিল। গতকাল বুধবার তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের সময় অস্ত্র প্রদর্শনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেসব ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।

গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ড পৌর সদরে দলটির দুপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী এবং উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের মামলার এজাহারে বলা হয়, সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মহাদেবপুর বাইপাস মোড়-সংলগ্ন মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে এক পক্ষের সমর্থিত প্রায় ৭০-৮০ জন নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে সমবেত হন। অন্য পক্ষের ৯০-১০০ জন এসিল্যান্ড অফিসের দক্ষিণে রাস্তার পশ্চিমে ‘মুনস্টার ক্লাব’-এ সমবেত হন। পরে তারা পৌরসভায় প্রবেশের সময় ‘হাসান গোমস্তা মোড়ে’ দুপক্ষ মুখোমুখি হয়। মুনস্টার ক্লাব থেকে আসা নেতাকর্মীদের মুখে মাস্ক, গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং কাঁধে ও বুকে ঝুলিয়ে রাখা ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা ব্যাগে ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে রাখা দেশীয় অস্ত্র, কিরিচ ও লাঠি নিয়ে শক্তি প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা ককটেল ও আতশবাজি ফুটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি ছোড়ে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। 

এজাহারনামীয় উল্লেখযোগ্য আসামি
জঙ্গল সলিমপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন, একই এলাকার সোহেল, মোহাম্মদ হানিফ, মো. ফাহিম ইসলাম, শহিদুজ্জামান ওরফে রনি, সাহেদুর রহমান রিমন, জাহাঙ্গীর আলম, সাদ্দাম, ইয়াকুব, মহালংকার এলাকার ইমতিয়াজ আহমেদ, সাদেক আলী, আমিরাবাদের কামরুল হাসান, মো. রিপন, মধ্যম মহাদেবপুরের মোহাম্মদ আলী, শরীফুল আলম সায়েম, মিরসরাই হাইতকান্দির বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম, মিজানুর রহমান রাজু, বাড়বকুণ্ডের আকতারুজ্জামান, একরাম, মুরাদপুরের শাহজাহান, পৌরসভার মিরাজ, হৃদয় ও শুভ।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, জনমনে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে– এমন কোনো সন্ত্রাসীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন

×