ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটিয়ায় বেড়েছে চুরি-ছিনতাই রাত নামলেই সিএনজি উধাও

পটিয়ায় বেড়েছে চুরি-ছিনতাই রাত নামলেই সিএনজি উধাও
×

আহমদ উল্লাহ, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম জেলার পটিয়ায় গত এক মাসে ধারাবাহিকভাবে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রাতে ঘরের সামনে সিএনজি অটোরিকশা রেখে ঘুমাতে ভয় পাচ্ছেন চালক ও মালিকেরা। চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সম্প্রতি তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং চারটি গাড়ি উদ্ধার করলেও চোরের উপদ্রব থামেনি।
গত ২৮ আগস্ট পটিয়ার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম গ্রামীণ ব্যাংক সড়ক এলাকায় মাত্র ১০০ গজের ব্যবধানে দুটি বাড়ি থেকে দুটি অটোরিকশা চুরি হয়। আগের রাতে চালক মো. ফরিদ ও মো. কাইছার গাড়ি দুটি বাড়ির বাইরে রেখে ঘুমিয়েছিলেন। ফরিদের ভাষ্যমতে, চারটি তালা ও শিকল দিয়ে গাড়ি বেঁধে রাখার পরও তা কেটে নিয়ে যায় চোরেরা।

এ ঘটনার দুই দিন পর, গত ৩০ আগস্ট উপজেলার খরনা ইউনিয়নে পুলিশ পরিচয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা সিসি ক্যামেরা চেকের অজুহাতে বাড়িতে ঢোকে। পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে। যাওয়ার সময় তারা সিসি ক্যামেরার ডিভিআর (DVR) যন্ত্রটিও নিয়ে যায়।
ধারাবাহিক এসব অপরাধের আবহে গত মঙ্গলবার রাতে পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই এলাকায় একই রাতে আবারও দুটি সিএনজি চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন জানান, রাত আড়াইটা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে তাঁর বাড়ির আঙিনা থেকে গাড়িটি চুরি হয়। ওই রাতে ওই এলাকার আরমান উদ্দিনের প্রায় সাত লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের সিএনজি অটোরিকশাটিও বাড়ির সামনে থেকে উধাও হয়ে যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, ঘটনার রাতে কর্ণফুলী সেতুর টোলবক্সের সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দুটি সিএনজি অটোরিকশা একসঙ্গে পার হয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে। ফলে পৃথক স্থান থেকে চুরি হওয়া গাড়ি দুটি কোনো এক পর্যায়ে একই সঙ্গে গেছে কিনা, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে। চুরির স্থান থেকে কর্ণফুলী সেতু পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাই করলে চোর চক্রের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল বা সহযোগীদের গতিবিধিও শনাক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট পুলিশ চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। 
তাদের কাছ থেকে চারটি সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়, যার তিনটির কোনো নিবন্ধন
নম্বর ছিল না। পুলিশ জানায়, বিভিন্ন জেলা থেকে চুরি করা অটোরিকশা কম দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে পটিয়ায় আনা হচ্ছিল। নম্বরপ্লেট পরিবর্তন, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর বিকৃত করা কিংবা নম্বরবিহীন অবস্থায় এসব অটোরিকশা বিক্রি করছিল চক্রটি। উদ্ধার হওয়া গাড়িগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্তে বিআরটিএ ও বিভিন্ন থানায় চুরি মামলার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
পটিয়া থানার ওসি মো. জিয়াউল হক সমকালকে বলেন, চুরি যাওয়া অটোরিকশা উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ চুরি হওয়া গাড়িগুলোর গতিপথ বের করার পাশাপাশি আগস্টে উদ্ধার হওয়া চোরাই সিএনজিগুলোর সঙ্গে নতুন ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×