ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সড়কে কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ

সড়কে কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ
×

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঘাটাইলের গারো বাজার থেকে সাগরদীঘির দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। এই সড়ক দিয়ে রাতে পরিবহন করা হয় তরল এবং বস্তায় ভরা মুরগির বিষ্ঠা। প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা বিষ্ঠা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পড়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তরল বিষ্ঠা পড়ে সড়ক হয়ে যাচ্ছে স্যাঁতসেঁতে এবং পিচ্ছিল। এতে দুর্ভোগে রয়েছেন পথচারীসহ সাগরদীঘি ও লখিন্দর ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
সাগরদিঘী বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাগরদীঘি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একই ফটক ব্যবহার করেন। প্রায় প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠান দুটির ফটকের সামনে মুরগির বিষ্ঠার বস্তা পড়ে থাকে। পাশে মসজিদ। উৎকট গন্ধের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পাঠদান এবং মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে হয়। স্কুল শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম বলে, ‘গন্ধে আমাদের পেট ফুলে যায়। আমাদের বাঁচান।’ কলেজ শিক্ষার্থী ঊর্মি বলেন, ‘আমরা কি সভ্য সমাজে বাস করি না, অসভ্য সমাজে? এগুলো দেখার কি কেউ নেই?’

সাগরদীঘি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফার ভাষ্য, দুর্গন্ধে স্কুলে থাকা যায় না। ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। সাগরদীঘি কলেজের অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, প্রায় প্রতিদিন সকালে উঠে দেখা যায় সড়কে পড়ে আছে মুরগির বিষ্ঠা। এই সড়ক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা কলেজে আসতে চায় না। দুর্গন্ধে পেট ফুলে যায়। এর একটা বিহিত করা দরকার।’
স্থানীয়রা জানান, লখিন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম চৌধুরীসহ সাগরদীঘি ইউনিয়নের কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী এই মুরগির বিষ্ঠার ব্যবসায় জড়িত। ফোনে জসিম চৌধুরীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ছয় মাস আগে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলাম, এখন আর নেই। আমার নাম কেউ বলে থাকলে তা ঠিক না।’ বিষ্ঠা রাস্তায় পড়ে মানুষের চলাচলের অসুবিধা এবং তীব্র দুর্গন্ধ হওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি।

লখিন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম জামালের ভাষ্য, মুরগির বিষ্ঠা তরল জাতীয় হওয়ায় পরিবহন করার সময় কিছুটা পড়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, এখানে একটা সিন্ডিকেট আছে। তাদের টাকা-পয়সা না দিতে পারলে ট্রাক সড়কে আটকে দেয় এবং বিষ্ঠাগুলো সড়কে ফেলে দেয়।
ঘাটাইলের সবচেয়ে বড় সিপি কোম্পানি প্যারাগন। প্যারাগনের ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম জানান, তাদের কাছ থেকে বিষ্ঠা কিনে নেন জসিম চৌধুরীসহ অনেকে। পরিবহনের সময় রাস্তায় বিষ্ঠা পড়ে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বিষ্ঠা ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো পরিবহন না করতে পারলে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সাগরদীঘি বাজার সমিতির সভাপতি আব্দুল হামিদ বলেন, দুর্গন্ধে মানুষ অতিষ্ট। সড়কের পাশের দোকানগুলোতে মানুষ আসতে চায় না। মুরগির বিষ্ঠা সড়কে পড়ে থাকার কারণে চলাচলের কোনো পরিবেশ থাকে না।

লখিন্দর ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের ভাষ্য, বিষ্ঠা পরিবহনের সময় লখিন্দর থেকে শুরু করে সাগরদীঘি পর্যন্ত পুরো সড়ক সয়লাব হয়ে যায়। সকালবেলা শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। মসজিদ মাদ্রাসার সামনেও বিষ্ঠার বস্তা এবং তরল পড়ে থাকে। ভোগান্তিতে আছে মানুষ। দীর্ঘদিন এলাকাবাসী তাঁর কাছে মৌখিক অভিযোগ করছেন। গতকাল বুধবার বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হয়েছে।
সাগরদীঘি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, জনদুর্ভোগ যেন না হয় সে বিষয়ে যারা বিষ্ঠা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের ডেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমাদুল হাসান সমকালকে বলেন, বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়েছে। সিপির কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলো বাইরে বিষ্ঠা বিক্রি বন্ধ করে দেবে বলে তাঁকে জানিয়েছে। এরপরও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×