ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে কমছে মাদকের তৎপরতা

স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে কমছে মাদকের তৎপরতা
×

প্রতীকী ছবি

 পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৪৬

সুনামগঞ্জ শহরের স্বেচ্ছাসেবী তরুণদের গড়া সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে প্রকাশ্যে মাদক কারবারের প্রবণতা কমতে শুরু করেছে। মাদকবিরোধী এই আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন তরুণরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় যুবসমাজ যৌথভাবে কাজ করলে মাদক নির্মূল আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের একজন সংগঠক জানান, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে গেলে অনেক সময় হাতেনাতে মাদক পাওয়া কঠিন হয়, আবার আমরা নিজেরাও একা অভিযানে গেলে নানা মিথ্যা অভিযোগের মুখে পড়তে হয়। তবে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ প্রচেষ্টায় মাদকের বিস্তার কমে আসবে বলে আশা করেছেন তারা।

মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবু সালেহ জানান, সম্প্রতি শহরতলির মাদক স্পট ইব্রাহীমপুর থেকে ইয়াবাসহ বেশকিছু মাদক উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাদের। এর আগে মল্লিকপুর উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে সেলিম আহমদ নামে এক পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে সংগঠনটি।

এ ছাড়া শহরের হাসননগর, ইকবালনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সংগঠনের এক নেতার মাদকাসক্ত চাচাকে পুলিশে সোপর্দ করার মতো দৃষ্টান্তও রয়েছে।

শুধু মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদ নয়, পাড়া-মহল্লা ও গ্রামীণ পর্যায়েও যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ। সামাজিক এই বয়কটের মুখে পড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা।

শহরের বরপাড়া উভনা ক্লাবের সহসভাপতি হুশিয়ার আলম বলেন, গত তিন বছর ধরে কোনো ক্লাব ছাড়া মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তারা। অনেককে হাতেনাতে ধরে আইনের হাতে সোপর্দ করেছেন। সামাজিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় এসব কার্যক্রমে বড় কোনো সমস্যা হয়নি।

বরপাড়া উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদ বলেন, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুঝিয়ে নিষেধ করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছ থেকেও এ বিষয়ে ভালো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।

জেলা মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল রিজান জানান, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের সহযোগিতায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি।

সচেতন নাগরিক কমিটির সহসভাপতি খলিল রহিম এই সামাজিক আন্দোলনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সতর্ক করে বলেন, সবকিছু আইনের মধ্যে থেকে করতে হবে। এই সামাজিক আন্দোলন মূলত সরকারকে সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যেন অন্য কেউ অহেতুক হয়রানির শিকার হন।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ বলেন, যুবসমাজ যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তাতে মাদক ব্যবসায়ীদের মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। এটি তরুণদের সাহসিকতার ফলে সম্ভব হচ্ছে। তারা স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছে। তবে সামাজিক সংগঠনে যেন কোনো দুষ্কৃতকারী ঢুকে পড়তে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সঞ্জয় সরকার জানান, সামাজিক ঐক্যবদ্ধতা পুলিশের কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ উঠেছে। পুলিশের জিরো টলারেন্স অবস্থান রয়েছে। জেলায় জুলাই মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৯টি এবং আগস্ট মাসে ৫৮টি মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×