গোয়ালঘরে থাকা দম্পতির পাশে দাঁড়াল প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:২৮
অন্যের গোয়ালঘর ছিল তাদের ঘর। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর গ্রামের সোহেল ও ঝর্ণা দম্পতি। অসুস্থতা, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সালথা উপজেলা প্রশাসন। তাদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে বসতঘর ও দোকান। দোকানের মালপত্রেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
আজ সোমবার সকাল ৯টায় আটঘর গ্রামে সোহেল-ঝর্ণা দম্পতির ঘর ও দোকান নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, আটঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুর রহমান খান, সালথা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রাজিয়া বেগম, জয়নাল মুন্সীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় ওহাব মাতুহ্বরের গরু রাখার জন্য নির্মিত ছোট্ট একটি ঘরই ছিল সোহেল-ঝর্ণা দম্পতির পরিবারের একমাত্র আশ্রয়। স্যাঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুই সন্তান নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন তারা। ঘরটি এতটাই ছোট যে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও কঠিন ছিল।
এর মধ্যে শারীরিকভাবে অসুস্থ সোহেল নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। তার স্ত্রী ঝর্ণাও দীর্ঘদিন ধরে দুই কিডনি নষ্ট হয়ে অসুস্থ। একসময় ভিক্ষা করে সংসারে সামান্য সহযোগিতা করলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন সেটিও সম্ভব হয় না। ফলে খাবার, চিকিৎসা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছিল পরিবারটির।
দারিদ্র্যের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সন্তানদের পড়াশোনায়। ১৩ বছর বয়সী বড় ছেলে সংসারের অভাবের কারণে স্কুল ছেড়ে স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করছে। সাত বছর বয়সী ছোট ছেলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে।
পরিবারটির দুরবস্থার খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে তাদের বাড়িতে যান সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। সরেজমিনে গিয়ে পরিবারের বাস্তব অবস্থা দেখে তিনি তাদের জন্য একটি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে যাতে পরিবারটির একটি স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা হয়, সে জন্য দোকান নির্মাণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত মানবেতর। তাদের মাথা গোঁজার মতো ঘর নেই। পাশাপাশি স্থায়ী আয়েরও ব্যবস্থা নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘর ও দোকান নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। দোকানের মালপত্রেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এতে পরিবারটির জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে। তারা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।