ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৌলতপুরে পদ্মার পানিতে ডুবে গেছে পথঘাট

দৌলতপুরে পদ্মার পানিতে ডুবে গেছে পথঘাট
×

চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুরে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ। যাতায়াতের ভরসা ডিঙি। গতকাল সোমবার তোলা

 আহমেদ রাজু, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

চারদিকে শুধু পানি। কোথাও উঠানের চিহ্ন নেই; নেই চলাচলের চেনা পথ। যে পথে প্রতিদিন মানুষের যাতায়াত ছিল, তা এখন পানির নিচে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, পদ্মা নদীরই বিস্তৃত বুক। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ডুবে যাওয়া জনপদের বর্তমান চিত্র এটি।

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে এসব এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে। অনেক বাড়ির উঠান ও ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোমরসমান, কোথাও হাঁটুপানি। পানিতে ভাসছে ঘরের আসবাব; নষ্ট হচ্ছে রান্নার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। পাকা-কাঁচা রাস্তা, সরু গলি, হাটবাজার– সবই এখন পানির নিচে।
দিন যত যাচ্ছে, পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ তত বাড়ছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পানিতে আটকে থাকায় অনেক স্থানে স্যানিটেশন ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। এতে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘরের ভেতর কিংবা উঠানে কোমরপানি। এর মধ্যেই রান্না, খাবার সংরক্ষণ ও গবাদি পশু নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন তারা। স্থানীয়রা বলছেন, পানির সঙ্গে তাদের অভাবও বাড়ছে। চলাচলের জন্য ‘টিনের ডিঙি’ নৌকার পাশাপাশি এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, গোখাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ।

যাতায়াতের বাহন হয়ে উঠেছে ‘টিনের ডিঙি’
চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বাহন হয়ে উঠেছে ছোট ‘টিনের ডিঙি’। বাজারে যাওয়া, খাবার পানি আনা, শিশুদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া কিংবা অসুস্থ কাউকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া– সব কাজেই ব্যবহার হচ্ছে এই নৌকা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাঠ ও ঢেউটিন দিয়ে তৈরি এসব ডিঙি আকারে ছোট ও হালকা। অগভীর পানিতেও সহজে চালানো যায়। একজন মানুষও বৈঠা দিয়ে এগুলো চালাতে পারেন। ফলে বড় নৌকা কেনার সামর্থ্য না থাকা পরিবারের জন্য কম খরচের এই ডিঙিই এখন সবচেয়ে কার্যকর বাহন।

প্লাবিত এলাকার ছোট গলি থেকে প্রধান সড়ক– যেদিকেই চোখ যায়, দেখা যায় টিনের ডিঙি। একসময় যেসব পথে মানুষ হেঁটে, সাইকেল বা মোটরসাইকেলে চলাচল করতেন, এখন সেসব পথেই বৈঠা হাতে চলছেন তারা। রান্নার উপকরণ কিনতে বাজারে যাওয়া, খাবার পানি সংগ্রহ, শিশুদের শুকনো জায়গায় নেওয়া কিংবা জরুরি প্রয়োজনে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যাওয়ার জন্য কাজে লাগছে ছোট নৌকা।
চিলমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, বাড়ির চারপাশে পানি, ঘরের ভেতরও পানি উঠে আসছে। আসবাব নষ্ট হয়ে গেছে। 
বাইরে বের হওয়ার কোনো উপায় ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে একটা টিনের ডিঙি কিনেছি। 
স্থানীয় কারিগররা জানান, ঢেউটিন ও কাঠ দিয়ে অল্প সময়েই এসব ডিঙি তৈরি করা যায়। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় একজন কারিগর দিনে কয়েকটি পর্যন্ত ডিঙি তৈরি করছেন। আকার ও নির্মাণসামগ্রীর ওপর নির্ভর করে প্রতিটি ডিঙি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়।

বৃষ্টি হতে পারে আজ থেকে তিন দিন
এদিকে, বর্ষা শেষের দিকে আসায় দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমেছে। গতকাল সোমবার দিনের শুরুতেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিল ভ্যাপসা গরম। সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, বর্ষা প্রায় শেষের দিকে। এ কারণে বৃষ্টির প্রবণতা কমেছে। মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার প্রায় সারাদেশেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর বৃষ্টি কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হলেও দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি ছিল খুবই কম। আগামী দুদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুন

×