ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটে রাষ্ট্রপতি

পর্যটন ও চা শিল্পে আরও বিনিয়োগের আহ্বান

পর্যটন ও চা শিল্পে আরও বিনিয়োগের আহ্বান
×

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.) -এর মাজার জিয়ারত করেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দুই মাজার জিয়ারত শেষে তিনি মোনাজাতে অংশ নেন। ছবিটি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার থেকে তোলা - পিআইডি

 বাসস

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য, শিল্পসহ অন্যান্য খাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের অধিকতর বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন মাঠে সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্প খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা বাগান, বন, হাওর– সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল। আমি বিশ্বাস করি, এসব খাতে আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজ যারা প্রবাসে আছেন এবং যাদের যথেষ্ট যোগ্যতা আছে, তারা যদি এসব খাতে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসেন, তাহলে এখানে আমাদের পর্যটনশিল্পে অনেক বেশি উন্নত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ এ সময় চা শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সিলেটের চা বাগান শুধু আমাদের বাংলাদেশে নয়; সারাবিশ্বে বিখ্যাত। সে জন্য এই সিলেট অনেক বেশি সামনে এগিয়ে আছে।’
সিলেটে মাছ চাষের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এখানকার হাওরগুলোতে মাছ চাষের অনেক সুবিধা আছে এবং এখানে যে মিনারেলস আছে, সেগুলো দিয়ে এখানে অনেক বড় বড় শিল্প গড়ে উঠতে পারে। এ সময় তিনি প্রবাসীদের বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিল্প, চা শিল্প, পর্যটন, গ্যাস– এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। 

সিলেটের প্রবাসী সমাজের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেটের প্রবাসী সমাজ শুধু সিলেটের অর্থনীতি নয়; বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। 
রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী দিনের লড়াই হচ্ছে দেশ পুনর্গঠন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য আবাসস্থল নির্মাণ করা। তিনি বলেন, ‘আসুন, এখন অন্তত আমাদের সাধারণ যে ইস্যুগুলো আছে, সেগুলোতে আমরা একমত হই। একমত হয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।’

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান আমরা এখানে অনেক জাতি একসঙ্গে বাস করি এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে সৌন্দর্য হচ্ছে যে বাংলাদেশে কমিউনাল হারমোনি আছে।’

এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গাউছ, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
এর আগে রাষ্ট্রপতি দুপুরে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। 

নগর বিএনপির অনেকে অনুষ্ঠানে যাননি
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিসিক আয়োজিত রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনায় নগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির অনেক নেতা যাননি।
নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, তারা সংবর্ধনা সভা বর্জন করেছেন। সিসিক প্রশাসকের একক কর্তৃত্ব, স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন কারণে তারা সভায় যাননি। সংবর্ধনা কমিটি গঠনের কথা থাকলেও সিসিক প্রশাসক করেননি। বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা নেতারাও সভা বর্জন করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে সিসিক প্রশাসকের মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। 

আরও পড়ুন

×