ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালভার্টের কাজ না করে বরাদ্দ নিয়ে নয়ছয়

কালভার্টের কাজ না করে বরাদ্দ নিয়ে নয়ছয়
×

 ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় একটি কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্প ছিল; যা বাস্তবায়ন না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে টাকা জমাও দেওয়া হয়েছে। অব্যবহৃত সেই টাকা এখনও জমা পড়েনি সরকারি কোষাগারে।

জানা গেছে, উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের কাউয়ানিয়া গ্রামে টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় কালভার্টটি নির্মাণের কথা ছিল। এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে। অথচ এখন পর্যন্ত কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। এদিকে কাজ না করে ওই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দের পুরো দেড় লাখ টাকা ছাড় ও উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। আবার উত্তোলন করা দেড় লাখ টাকা প্রকল্প সভাপতি পে অর্ডারের মাধ্যমে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অনুকূলে জমাও দিয়েছেন। অব্যবহৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে সেই পে অর্ডার নিজের কাছে সংরক্ষিত রেখেছেন পিআইও।

প্রকল্পের কাজ শেষ না হলেও সরকারি অর্থ ছাড় এবং পরে পে অর্ডারের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া টাকা আটকে রাখার ঘটনায় প্রকল্প বাস্তবায়ন স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের কাউয়ানিয়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের বাড়ির পাশের রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আ. ছমাদ আজাদকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিসিসি) সভাপতি করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল গত ৩০ জুন পর্যন্ত। ওই সময়ের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে কালভার্ট নির্মাণের কোনো কাজ হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের জায়গায় এখনও কালভার্টের অস্তিত্ব নেই। এমনকি প্রকল্পের কাজ শুরু না হলেও কাগজপত্রে কাজ শেষ দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা ছাড় করা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, অর্থবছরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হয়। এক্ষেত্রে কাজ বাস্তবায়ন না করে বরাদ্দের পুরো টাকা ছাড় দেওয়া হয়। কাগজে-কলমে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সরকারি বরাদ্দ ছাড় এবং পরে পে অর্ডারের মাধ্যমে ফেরত নেওয়া অর্থ আটকে রাখার এই প্রক্রিয়া সরকারি অর্থব্যবস্থাপনার নিয়ম ও প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

প্রকল্প সভাপতি মো. আ. ছমাদ আজাদ বলেন, কালভার্ট নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে বালু-পাথর আনা হয়েছে। ক’দিনের মধ্যে কাজ শেষ শুরু ও শেষ হবে। প্রকল্পের বরাদ্দের দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করে পে অর্ডার করে রাখা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পরে পিআইও পে অর্ডার ছাড় দেবেন।
মধ্যনগর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিজানুর রহমান বলেন, পানি চলে আসায় কাজ আটকে গিয়েছিল। প্রকল্প সভাপতিকে টাকা দেওয়া হয়েছে। সিকিউরিটি হিসেবে পে অর্ডার নেওয়া হয়েছে। তবে কাজ না হলেও বরাদ্দের টাকা কীভাবে ছাড় হলো–এ প্রশ্নের উত্তর দেননি পিআইও।

আরও পড়ুন

×