ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উদাসীন নলছিটি পৌর কর্তৃপক্ষ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উদাসীন নলছিটি পৌর কর্তৃপক্ষ
×

হাসপাতালের শয্যায় মশারির ভেতর চিকিৎসাধীন কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী। গতকাল বুধবার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সমকাল

নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

নিজ কর্মস্থলে গত আগস্টে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন মো. জুবায়ের হোসেন। তিনি ঝালকাঠির নলছিটি জেড. এ ভুট্টো ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক। অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে যান তিনি। বর্তমানে আগের চেয়ে সুস্থ থাকলেও দুর্বলতা কাটেনি। নলছিটি পৌর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তাঁর মতো সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগে গত জুন থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে এসেছেন দেড় শতাধিক রোগী। তাদের মধ্যে ভর্তি হতে হয় ৮৬ জনকে। গতকালও এখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৮ জন। 

পৌরবাসীর অভিযোগ, সরকার তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেও নলছিটি পৌর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উদাসীন। সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা বা প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা তাদের নজরে পড়েনি। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও সতর্কতামূলক প্রচারে ব্যবস্থা নেননি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় কীট ও রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা এখানে রয়েছে। যদিও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য ভিন্ন। গত ১১ আগস্ট সস্ত্রীক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন সংবাদকর্মী মো. মিথুন। তাঁর ভাষ্য, পরীক্ষায় রোগটি শনাক্ত হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান তারা। তবে চিকিৎসকেরা সেখানে না রেখে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে রেফার করেন। চিকিৎসায় দুজনের প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন মো. মিথুনের এক খালাতো ভাইও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। তিনি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব সহকারী মেহেদি হাছানের দেওয়া তথ্য মতে, তারা ডেঙ্গু সন্দেহ হলে রোগীর এনএসওয়ান, আইজিজি/আইজিএম পরীক্ষা করেন। 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এইচ এম হাবিবুর রহমানের ভাষ্য, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলাদা ৮টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার কিট ও ল্যাবরেটরি চালু আছে। তারা সক্ষমতা অনুযায়ী রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য মতে, গত জুনে ৩৮ জন, জুলাইয়ে ৩০ জন, আগস্টে ৩৯ জন ও সেপ্টেম্বরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত ২০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। কিছু রোগী ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল, বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নলছিটি পৌর শহরের তিনটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চলতি মৌসুমে পাঁচ শতাধিক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন বলে ক্লিনিকগুলো থেকে জানা গেছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, ডেঙ্গুর প্রকোপের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকলেও প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে। মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ ১৫-২০ বছর আগে দুটি ফগার মেশিন কিনেছিল। এগুলো এখন অকেজো।

নলছিটির ইউএনও পদে এক মাস আগে যোগ দেন প্রতীক কুমার কুণ্ডু। তিনি পৌরসভার প্রশাসক পদেও আছেন। তাঁর ভাষ্য, যোগ দেওয়ার পর থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ড্রেন, নর্দমার ময়লা-আর্বজনা পরিষ্কার, স্কুল-কলেজ পরিষ্কার ও পরিত্যক্ত জায়গায় আটকা পানি, কচুরিপানা সরাতে কাজ শুরু করেন। ফগার মেশিন অকেজো থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, পৌরসভার কেনাকাটায় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া মেনে চলতে হয়। দরপত্র আহ্বানও সময়সাপেক্ষ। তারা নতুন ফগার মেশিন কেনার প্রস্তুতি নিয়েছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 
 

আরও পড়ুন

×