ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দখলে থাকা ৬৩ কোটি টাকার জলাশয় উদ্ধার

দখলে থাকা ৬৩ কোটি টাকার জলাশয় উদ্ধার
×

 নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরাঞ্চল

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

জালিয়াতির মাধ্যমে শ্রেণি পরিবর্তন করে বগুড়া শহরের স্টেশন রোড-সংলগ্ন চকবৃন্দাবন মৌজার ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের রেলওয়ের এক দশমিক ২৮ একর প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাটের অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত নস্যাৎ করে দিয়েছে প্রশাসন। গতকাল বুধবার অভিযান চালিয়ে জলাশয়টিতে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। একই সঙ্গে স্থানটির সীমানা নির্ধারণ এবং ভরাটকৃত মাটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে লিজ গ্রহীতা ও ব্যবসায়ীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, প্রায় ৯৪ শতক জমির লিজ প্রক্রিয়ায় ৫০ জন ব্যবসায়ী সম্পৃক্ত থেকে সরকারি কোষাগারে প্রায় এক কোটি ৯ লাখ টাকা খাজনা জমা দিয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স দেওয়ার পর সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন এটিকে অবৈধ ঘোষণা করায় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তবে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া পুকুরের শ্রেণি পরিবর্তন করার এখতিয়ার কারও নেই। লিজ গ্রহীতাদের জমা দেওয়া কাগজপত্র জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে এবং সিটি করপোরেশন থেকে কোনো স্থাপনার অনুমতিও নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে রেলওয়ের কানুনগো রাজিবুজ্জামান নিশ্চিত করেন, আরএস খতিয়ানে জমিটি পুকুর হিসেবেই উল্লেখ ছিল এবং সেই অনুযায়ী লিজ দেওয়া হয়েছিল; পরে ভিটা করার আবেদন জেলা প্রশাসন নাকচ করে দেয়।

উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জানান, শহরের পরিধি বাড়লেও ফায়ার সার্ভিসের জরুরি পানি পাওয়ার মতো কোনো বড় জলাশয় ছিল না; এটি অগ্নিনির্বাপণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত জলাশয়টি দ্রুত পুনঃখনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। ভবিষ্যতে এই ১ একর ২৮ শতক আয়তনের জলাশয়টিকে শহরের নগরবাসীর জন্য একটি দৃষ্টিনন্দন লেক ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

‘সমকাল’-এর অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০২৩ সালে কৃষি লিজ হিসেবে নেওয়ার পর সরকারি এই জলাশয়টিকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের চক্রান্ত শুরু হয়। একপর্যায়ে ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে পুকুরটির শ্রেণি পরিবর্তন করে ‘ভিটা’ বানিয়ে বহুতল মার্কেট ও স্থাপনা নির্মাণের প্রক্রিয়া চলে। স্থানটিতে বালু ফেলে ভরাটের চেষ্টা চালানো হলে স্থানীয়দের বাধার মুখে তা বন্ধ হয়। পরে জেলা প্রশাসনের তদন্তে ভূমিটি প্রাকৃতিক জলাশয় হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং শ্রেণি পরিবর্তনের আবেদন বাতিল করা হয়।

আরও পড়ুন

×