ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাঁশের সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠে নদী পারাপার

বাঁশের সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠে নদী পারাপার
×

দুই বছরেও সংযোগ সড়ক না হওয়ায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠে নদী পার হতে হচ্ছে মির্জাপুরের কামারপাড়ার বাসিন্দাদের। সম্প্রতি তোলা সমকাল

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কামারপাড়া নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। এরপর এই দীর্ঘ সময়েও সংযোগ সড়ক না হওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। বাঁশের সাঁকো বেয়ে সেতুতে উঠে নদী পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা। কাজের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ সুবিধাবঞ্চিত এলাকাবাসী।

জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া নদীর ওপর ৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি করছে। ২০২৪ সালের মধ্যে মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হয়। তবে এখনও রেলিংয়ের কাজ বাকি।

এরপর সংযোগ সড়ক নির্মাণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা। ২০২৫ সালের জুন থেকে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু গত ১৫ মাসে সংযোগ সড়কের কাজ অর্ধেকও হয়নি। এ অবস্থায় স্থানীয়রা সেতুর সঙ্গে বাঁশের একটি সাঁকো লাগিয়ে নিয়েছেন। সময় বাঁচাতে কেউ কেউ সেই সাঁকো বেয়ে সেতুতে উঠে নদী পার হচ্ছেন। অনেকে এখনও সেতুর পাশ দিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পার হচ্ছেন। এতে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, সেতুর উত্তর পাশে কিছু মাটি ফেলে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। এক দিন কাজ করলে সাত দিন বন্ধ থাকে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তা থেকে সেতুর ওপর পর্যন্ত একটি বাঁশের সাঁকো দেওয়া হয়েছে। সময় বাঁচাতে সেটি দিয়েই স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠে নদী পার হচ্ছেন। রাস্তা থেকে অন্তত ৫০ ফুট আঁকাবাঁকা ঢালু রাস্তা বেয়ে সেতুতে উঠছেন লোকজন। স্থানীয়রা বলছেন, ছয় বছরেও সেতুর কাজ শেষ হয়নি, বাকি রয়ে গেছে সংযোগ সড়কের কাজও। আর কতদিনে হবে তা নিয়ে হতাশ তারা। 

কামারপাড়া গ্রামের আবজাল হোসেন বলেন, মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া আঞ্চলিক সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ। কামারপাড়া নদীর ওপর সেতুটি চালু হলে মির্জাপুর থেকে ধামরাই হয়ে সরাসরি ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হবে। মির্জাপুরের সঙ্গে ধামরাই ও মানিকগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। দক্ষিণ মির্জাপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, সেতুটির কাজ সম্পন্ন করে মির্জাপুর-কামারপাড়া-ধানতারা সড়কে চলাচল আরও সহজ করা হোক। তাছাড়া মির্জাপুর থেকে ঢাকায় যেতে এই সড়ক একটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

কামারপাড়া গ্রামের মজিবর রহমান বলেন, আমার বয়স সত্তরে পৌঁছেছে। কাজের যে অবস্থা তাতে সেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে বাজারে যাওয়ার আশা পূরণ হবে কিনা আল্লাহ জানেন। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের অংশীদার মো. ইসলাম বলেন, সংযোগ সড়কের কাজটা একটু জটিল। তাছাড়া জায়গা নিয়ে সমস্যা ছিল। সেই সমস্যা নিরসনে সময় লেগেছে। দীর্ঘ একটা সময় বৃষ্টি ছিল। কাজ শেষ করার জন্য আমাদের আগামী জুন পর্যন্ত সময় আছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারবেন বলে তিনি দাবি করেন।

ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, সেতুর কাজে অনেক সময় বেশি নিয়েছে। এরপর সংযোগ সড়ক নির্মাণের সময় ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতায় অনেকদিন কাজ বন্ধ ছিল। বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। পরে আমি ঠিকাদার এবং স্থানীয়দের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করে বিষয়টি সুরাহা করতে সক্ষম হয়েছি। এখন কাজ চলছে। তবে কাজের গতি আরও বাড়ানো দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উপজেলা প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন বলেন, আমি মির্জাপুরে নতুন যোগ দিয়েছি। যোগদান করেই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর দিকে নজর দিয়েছি। কামারপাড়া সেতুর পুরো কাজ এবং সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সব জটিলতা নিরসন হয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হবে।

আরও পড়ুন

×