শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়নে কোটি টাকার গরমিল, কর্মী লাপাত্তা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়নের তহবিলে কোটি টাকা গরমিলের পর এক কর্মীর খোঁজ মিলছে না। গত ৩১ জুলাই থেকে ইউনিয়নের অর্থ আদায়কারী উত্তম সরকার আর আসছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে জমাদানকারীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উত্তম সরকার উপজেলার বান্দল গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৮ সালের মে মাসে তিনি কোটালীপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়নে অর্থ আদায়কারী পদে নিয়োগ পান। ইউনিয়নের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের জামানত ও ঋণের কিস্তির টাকা তহবিলে জমা দেননি উত্তম। তাঁর কাছে টাকার হিসাব চাওয়া হলে চলতি বছরের ৩১ জুলাই গা ঢাকা দেন। পরবর্তী সময়ে ক্রেডিট ইউনিয়ন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা তহবিলে থাকা টাকা-ক্যাশবই মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার গরমিল পান। এই টাকা আত্মসাৎ করে উত্তম পালিয়ে গেছেন বলে তাদের ধারণা।
পিঞ্জুরী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীহার রঞ্জন বারুরী বলেন, ‘আমি ২৪ হাজার টাকা ও আমার স্ত্রীর নামে ৫৫ হাজার টাকা ক্রেডিট ইউনিয়নে জামানত রেখেছিলাম। এই টাকা উত্তম সরকার ক্যাশবইয়ে পোস্টিং না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।’
কোটালীপাড়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক অসীম বিশ্বাসের ভাষ্য, তাঁর এক লাখ ১৮ হাজার টাকা ক্যাশ বইয়ে জমা দেননি উত্তম। সেই টাকা মেরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই টাকা আমার খুবই কষ্টের টাকা। আমি টাকা ফেরত চাই।’
ওয়েস্ট কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক আবু জাফর হাওলাদারের অভিযোগ, তাঁর এক লাখ ৬৪ হাজার টাকা উত্তম আত্মসাৎ করেছেন। অল্প অল্প করে তিনি এই টাকা জমা রেখেছিলেন। উত্তম টাকা ক্যাশ বইয়ে জমা করেননি। শুধু তাঁর পাস বইয়ে লিখে দেন। এখন তারা উত্তমকে খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘আমাদের চাওয়া উত্তম ফিরে এসে হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দিয়ে যাক।’
বক্তব্য জানতে বান্দল গ্রামে উত্তমের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। অজ্ঞাত জায়গা থেকে মোবাইল ফোনে তিনি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি দৈনিক ঋণের কিস্তি বা জামানতের যে টাকা আদায় করতাম, তা ম্যানেজার ইদ্রিসুর রহমানের কাছে জমা দিতাম। এখানে অর্থ আত্মসাতে আমার কোনো সুযোগ নেই।’
উত্তম সরকারের এ অভিযোগকে পুরোপুরি মিথ্যা উল্লেখ করে ইদ্রিসুর রহমান বলেন, তিনি গত ডিসেম্বরে পদ ছেড়ে দিয়েছেন। দৈনিক যে টাকা আদায় হতো, তা ক্যাশ বইয়ে তুলে উত্তমের ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা ছিল। তিনি সব সদস্যের বেলায় এ কাজটি করেননি। ক্রেডিট ইউনিয়নে ৭৯৫ জন সদস্য রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, শতাধিক সদস্যের টাকা উত্তম আত্মসাৎ করেছেন।
কোটালীপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়নের সভাপতি সরওয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘আমরা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে যতটুকু পেয়েছি, তাতে উত্তম সরকারই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রমাণিত হয়। তাছাড়া তিনি যদি টাকা আত্মসাৎ না করে থাকেন তাহলে আত্মগোপনে রয়েছেন কেন?’ এ বিষয় নিয়ে তারা উত্তমের বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা সুরাহা না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
- বিষয় :
- টাকা আত্মসাৎ