জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আর পরিকল্পনা নেই, সুযোগ এলে কমানো হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত
ঝিনাইদহে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সমকাল
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:০২
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, সামনে সুযোগ এলে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমানো হবে। মূলত পাচার রোধ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে জেলা পরিষদ চত্বরে তিনি বৃক্ষরোপণ করেন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যাচ অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পাশাপাশি দুটি দেশে যখন জ্বালানি তেলের চাহিদা ব্যাপক থাকে এবং দামের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকে, তখন তেল পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়। এটি রোধ করা কঠিন। সে কারণেই বাধ্য হয়ে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি যোগাযোগ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে। তারাই নিশ্চিত করবে, অতিরিক্ত ভাড়া যেন কেউ আদায় করতে না পারে।
কৃষিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে কৃষকের কৃষিজমিতে সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। এ জন্য বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে পর্যায়ক্রমে সেচের পাম্পগুলোকে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জ্বালানি বা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রাকৃতিক সৌরশক্তি ব্যবহার করে কৃষক যেন সেচপাম্প চালাতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে যাবে।
ঝিনাইদহের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সঙ্গে পর্যাপ্ত সমন্বয় করে জেলার উন্নয়নের গতি কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত বিরোধী দল থেকে জালিমে পরিণত হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে। এর জবাব জনগণই দেবে।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে জামায়াত ও শিবির আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদ, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।